মিয়ানমারের বাগোতে একদিনেই ৮২ জনকে হত্যা করল জান্তারা

18

মিয়ানমারে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গড়ে তোলা ব্যারিকেড অপসারণ করতে গিয়ে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর বাগোতে অন্তত ৮২ জন গণতন্ত্রপন্থিকে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রাচীন এই শহরের প্যাগোডা ও স্কুলের খেলার মাঠে মরদেহগুলো স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতভর সেখানে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এদিকে, দেশটির চলমান আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট গতকাল শনিবার শান রাজ্যের নউংমনের একটি থানায় হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হন।

১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। এরপর থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও অসহযোগ আন্দোলন চলছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিভিন্ন শহরের রাস্তায় দেওয়া হয়েছে বড় বড় ব্যারিকেড। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই ব্যারিকেড তোলার অভিযানে নামে নিরাপত্তা বাহিনী।

দেশটির স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা এএপিপি জানায়, শনিবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযানে ৮২ গণতন্ত্রপন্থি নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্যাগোডার আঙিনায় এখনও অনেকের মরদেহ রয়েছে। এ ছাড়া ওই সময় পর্যন্ত মাত্র তিনটি মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে, মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের একটি জেলায় সেনাবাহিনীর এক ক্যাপ্টেনের সহযোগীকে হত্যার অভিযোগে ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দেশটির সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন মায়াবতী টেলিভিশন এ খবর দিয়েছে। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জনের ১৭ জনই অনুপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, শনিবারও মিয়ানমারের প্রধান শহরগুলোতে অব্যাহত ছিল জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ। এ সময়, অভ্যুত্থানবিরোধী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে জান্তাবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। একইসঙ্গে, দেশটির নেত্রী অং সান সুচির মুক্তির দাবিও জানান তারা।

নিউজ হান্ট/ইস

পূর্ববর্তী নিবন্ধমামুনুলের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ ঝর্ণার খোঁজ মিলছে না, ছেলের জিডি
পরবর্তী নিবন্ধমিতা হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক