মিয়ানমারে জান্তা বিরোধীদের হামলায় পুলিশ প্রধান নিহত

26

এক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনীর দুটি ঘাঁটি দখল করে পুড়িয়ে দেয়ার পর গতকাল রোববারই (২ মে) সামরিক জান্তার হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীন কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মি (কেআইএ)। সেনাবাহিনীর ও অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলা অব্যাহত রেখেছে সংগঠনটি। এবার হামলা চালিয়ে একটি জেলার পুলিশ প্রধানকে হত্যা করেছে কেআইএ।

মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইরাবতী জানাচ্ছে, গতকাল সোমবার (৩মে) রাত ৮টার দিকে বামাহোর জেলার মানসি টাউনশিপের পুলিশ প্রধানের উপর হামলা চালায় কেআইএ। ওই হামলার পরপরই সে মারা যায়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা পত্রিকাটিকে বলেন, ‘পুলিশের মেজর হেইন হেত সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। হামলায় আরও একজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা সাধারণ মানুষ, হতাহতের বিষয়ে তাই আমাদের কাছে এর চেয়ে বিস্তারিত কিছু নেই। আহতদের বাহামো সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

ইরাবতীর খবরে বলা হয়, পুলিশ সদস্য এবং কেআইএ যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। পুলিশ স্টেশনের পাশেই সেনাবাহিনীর ৩১৯ ইনফ্যানটারি ব্যাটিলিয়ন। পরে তারাও কেআইএ’র হামলা জবাব দেয়।

কেআইএ’র তথ্য অফিসার কর্নেল নেউ বু পুলিশ স্টেশনে হামলা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে পুলিশও সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ এখন সেনাবাহিনীর মতোই। ফলে আমাদের এখন তাদের উপরও হামলা চালাতে হচ্ছে। সবাই জানে যে, পুলিশও এখন সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অত্যাচার-নির্যাতনের জন্য সমান দায়ী। তাই আমাদের হামলা চালাতে হচ্ছে।’

হামলার পর ওই পুলিশ স্টেশন থেকে কোনো অস্ত্র লুট করা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেননি এই কর্নেল।

১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের আগে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিল কেআইএ। তবে কাচিন রাজ্যে অভ্যুত্থান বিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশে সেনাবাহিনী গুলি চালালে ১১ মার্চ দুপক্ষের মধ্যেকার ওই আলোচনা ভেস্তে যায়।

ইরাবতী জানায়, ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭৬৪ জন নিহত হয়েছেন এবং এই সময়ে আটক করা হয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষকে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাজধানীতে অভিযান: স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১৭ মামলা
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশ থেকে ওমান প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ছে