মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, নিহত ২০

8

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমে সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সংঘর্ষে ‍অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সেনা সদস্যরা অস্ত্রের খোঁজে তল্লাশি শুরুর পর গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুপক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার ভোরে মিয়ানমারের আয়েইরাবতি নদী সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র খুঁজতে আসে জান্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শনিবার ভোরে কিওনপিয়াও শহরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। অস্ত্র মজুদের অভিযোগে এক বাসিন্দাকে গ্রেফতার করলে সেনাবাহিনীর বিরদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্থানীয়রা। পরে সেখানে একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

তিনি বলেন, গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে শুধুমাত্র তীর-ধনুক রয়েছে। সাধারণ গ্রামবাসীদের অনেকেই হতাহত হয়েছেন। মিয়ানমারের খিট থিট মিডিয়া এবং বিবিসি বার্মিজ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মুখপাত্রের বক্তব্য জানতে পারেনি।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অং সান সু চি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। দেশটির সাধারণ জনগণ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। অভ্যুত্থানের চার মাসেও দেশটির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি জান্তা।

মিয়ানমারে আয়েইরাবতি অঞ্চল চাউল উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলটিতে মিয়ানমারের সংখ্যাগুরু বামার জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু কারেন জনগোষ্ঠীর বহু লোক বাস করেন। দেশটির সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যই এই বামার জনগোষ্ঠীর লোক।

স্থানীয় অধিকার গোষ্ঠী অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এপিপিপি) জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে সেনাঅভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভে মিয়ানমারে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৪৫ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে সাংবাদিক, লেখকসহ আটক আছেন চার হাজারেরও বেশি মানুষ।

নিউজ হান্ট/ম

পূর্ববর্তী নিবন্ধফেসবুক-ইন্সটাগ্রামে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ ট্রাম্প
পরবর্তী নিবন্ধকাকপক্ষীও টের পায়নি প্রেম, কাকে বিয়ে করলেন ইয়ামি?