মোদি বিরোধী বিক্ষোভের ঠিক-বেঠিক

51

নিউজ হান্টের ফেসবুক লাইভে দুদিন ধরে দেখছি নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসার বিরোধিতা করে ভালোই বিক্ষোভ হচ্ছে বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকায়। বিক্ষোভ দেখে একপক্ষ বলছে, এসবের কোনো মানে নেই। আরেক পক্ষ বলছে, তাকে কোনোভাবেই আসতে দেয়া ঠিক না।

এই দুইপক্ষের ফাঁক গলে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আমি বলতে চাই,এই বিক্ষোভের একটা অর্থ আছে। একটা বার্তা আছে। সেই অর্থ কিংবা বার্তা ভারত এই কদিনে পেয়ে গেছে। এখন বিক্ষোভের রাশ টানা উচিত।

গোয়েন্দাদের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এসব খবর পাচ্ছেন। ফেসবুকের জমানায় হয়তো সেসব তিনি দেখছেনও। ভারতে কয়েকটি সাম্প্রদায়িক ঘটনায় মোদি সরকার যে ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের মানুষ তাতে যে ক্ষুদ্ধ, তা তিনি বুঝতে পারছেন। সীমান্তে হত্যা বন্ধ না হওয়ায় বাংলাদেশিরা যে তাকে বন্ধু ভাবতে দুইবার ভাবছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন। এটাই আসলে বার্তা।

এবার একটু অন্যদিকে আসি। করোনার এই বৈশ্বিক মহামারীতে মোদি সরকার যতটা পেরেছে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। ১০০ কোটির দেশ ভারতে টিকা নিয়ে টানাটানি থাকলেও বাংলাদেশকে তিনি ২০ লাখ টিকা উপহার দিয়েছেন।

তিস্তার পানি তিনি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কারণে পারেননি। মমতা নিজেই কিছুদিন আগে বলেছেন,নরেন্দ্র মোদি তাকে তিস্তার পানি বাংলাদেশকে দিতে বলেছিলেন; কিন্তু তিনি রাজি হননি!

ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থা আসলে এমন। এক প্রধানমন্ত্রী চাইলেই সবকিছুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাকে রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রধান হিসেবে কেউ একজন আসবেন, সেটা খুবই স্বাভাবিক। যে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চীন আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে ভাবেনি সেই দেশগুলোর সঙ্গে এখন সখ্যতা থাকলে ভারতের সঙ্গে অবশ্যই থাকবে। ভারতে মুসলিমরা যতটা নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন, শ্রীলঙ্কা-চীনে তার কয়েক গুণ বেশি। চীনের উইঘুরে তো মুসলিমরা গণহত্যার শিকার হচ্ছেন! শ্রীলঙ্কায় লাশ কবর পর্যন্ত দিতে দেয়া হচ্ছে না। অথচ এই দুটি দেশ নিয়ে আমাদের এখানে কিন্তু খুব একটা বিক্ষোভ নেই।

রাষ্ট্রীয় সফরে কোনো প্রধানমন্ত্রী যখন আসবেন, তখন এই বিক্ষোভের কারণে বাংলাদেশ যেন বিশ্বদরবারে অপমানিত না হয়, সেটি মাথায় রাখতে হবে। এ জন্যই শুরুতে বলেছি এখন রাশ টানা উচিত।

যতটুকু বিক্ষোভ হয়েছে, সেটাই যথেষ্ট। এতটুকু না হলে বার্তা যেমন পৌঁছানো যেত না, তেমনি এর বেশি হলে পৌঁছানো বার্তার কোনো অর্থ থাকবে না। তাতে হিতে বিপরীত হবে।