যত টাকাই লাগুক সবার জন্য ভ্যাকসিন আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী

14

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ খুবই মারাত্মক। যত টাকাই লাগুক করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে আসা হবে এবং সবাই পাবে। সামনে করোনার টিকা আরও আসবে, কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সবার জন্য করোনা ভাইরাসের টিকা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে।

আজ রোববার মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে অসহায় মানুষকে আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

করোনা ভাইরাসের টিকা নেওয়ার সত্ত্বেও মাস্ক পরার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজেদের সুরক্ষা রাখতে হবে এবং অন্যদের সুরক্ষা রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, সরকার কাজ শুরু করার পর যেসব বুদ্ধিজীবী পরামর্শ দেন তারা কোথায়, কয়জনকে সহযোগিতা করেছেন। অতীতের মতো করোনা দুর্যোগেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে সবধরনের সহায়তার পাশাপাশি দলীয়ভাবেও আমরা মানুষের পাশে আছি।’

তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবানদের মহামারিতে কষ্ট পাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আন্তঃজেলা যান চলাচল বন্ধ থাকায় কাজ হারানো পরিবহন শ্রমিকদেরও আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে যাতে সেটা করা যায়, সেজন্য জেলা প্রশাসকদের অনুকূলেও অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধীদলে থাকা অবস্থাতেও মানুষের পাশে ছিল আওয়ামী লীগ। অন্যান্য রাজনৈতিক দল, যারা সরকার উৎখাতের কথা বলেন। তারা আজ মানুষের পাশে নেই কেন? বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শ বা বুদ্ধি তখনই পাওয়া যায়, যখন সব সিদ্ধান্ত বা কাজ সরকার সম্পন্ন করে ফেলে।

তিনি বলেন, ‘করোনায় কৃষকের ধান কাটার সমস্যা ছিল। আমি বলার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ মানুষের ধান কেটে দিয়েছে। এভাবে সব দুর্যোগ দুর্বিপাকে আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে থাকে।’

ভোলা, জয়পুরহাট ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রান্ত থেকে স্থানীয় সংসদ,জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরা অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে ঈদ উপহার হিসেবে করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন দিনে ২২ হাজার ৮৯৫ জন সুবিধাভোগী মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমে সহায়তা পান। তিন দিনে সাড়ে ৩৬ লাখ মানুষ এ সহায়তা পাবেন।

দ্বিতীয়বারের মতো হাতে নেওয়া এই সহায়তা জন্য ৯১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১৪ই এপ্রিল তারিখ থেকে করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে সার্বিক কার্যাবলী ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর, কৃষক, শ্রমিক, গৃহকর্মী, মোটর শ্রমিকসহ অন্যান্য পেশায় নিয়োজিতদের পুনরায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রতি ২৫শ’ টাকা করে প্রদানের সুপারিশ করা হয়।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধপশ্চিমবঙ্গে বাম-কংগ্রেসের ভরাডুবি
পরবর্তী নিবন্ধগণপরিবহন চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ