যেসব কারণে রোজায় টকদই খাওয়া জরুরি

19

প্রচণ্ড গরমে রোজা রাখার কারণে অনেকের শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই এ সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে সুস্থ থাকা সম্ভব। সেইসঙ্গে করোনাকালে যেকোনো সময় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

তাই রমজানের বরকতময় মাসে ইফতার ও সাহরিতে রাখতে হবে পুষ্টিকর সব খাবার। মনে রাখতে হবে, পেট ভরলেই কিন্তু শরীর ভরপুর পুষ্টি পায় না। তাই মুখোরোচক খাবারের বদলে মহামারি এই সময় পাতে রাখতে হবে পুষ্টিকর সব আহার।

তেমনই এক খাবার হলো টকদই। অনেকেই হয়তো এটি খেতে পছন্দ করেন না। কারণ এর স্বাদ টক হয়ে থাকে অনেকটা। তবে পুষ্টিগুণের দিকটি বিবেচনা করলে বুঝতে পারবেন এটি আপনার শররের জন্য এখন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

রোজার সময় সাহরিতে টকদই খেলে পেটও যেমন ঠান্ডা থাকবে আবার সারাদিন ক্লান্তিবোধ অনুভূত হবে না। টকদই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং হজম উন্নতি করে।

টকদইয়ে তাকে ক্যালসিয়াম, যা স্বাস্থ্যকর দাঁত এবং হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ। এক কাপ টকদই আপনার প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের ৪৯ শতাংশ সরবরাহ করে। এতে ভিটামিন বি, বি-১২ এবং রাইবোফ্লাভিন আছে। যা হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে।

এ ছাড়াও এক কাপ টকদইতে আপনার প্রতিদিনের ফসফরাসের ৩৮ শতাংশ, ম্যাগনেসিয়ামের ১২ শতাংশ এবং পটাসিয়ামের ১৮ শতাংশ প্রয়োজন সরবরাহ করে। এই খনিজগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, বিপাক এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়।

এ ছাড়াও ভালো টকদইতে প্রোবায়োটিক থাকে। যা অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে ভালো ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। এটি হজমের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পেটের অস্বস্তিকর ভাব দূর করে টকদই।

নিয়মিত দই খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এ ছাড়াও অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে। বেশ কিছু গবেষণায় থেকে দেখা গেছে, প্রোবায়োটিক সাধারণ ফ্লুজনিত অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে।

এ ছাড়াও টকদইতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং স্বল্প পরিমাণে মনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। কিছু গবেষণা দেখা গেছে, দুগ্ধজাত খাবারে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট ভালো এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায়।

যা হৃদরোগের সুরক্ষা দিতে পারে। দুগ্ধজাত খাবারগুলো উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। উচ্চ রক্তচপাই হৃদরোগের কারণ।

সাহরি এক কাপ টকদই খেলে রোজায় শরীরের দূর্বলতা কমবে। পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে, যা এ সময় বেশি প্রয়োজন। শুধু টকদই খেতে না পারলে, এর মধ্যে বিভিন্ন ফল মিশিয়েও খেতে পারেন। এ ছাড়াও ওটস মিশিয়েও খেতে পারেন টকদই।

নিউজ হান্ট/ইস

পূর্ববর্তী নিবন্ধফেসবুকে কন্টেন্ট নির্মাতাদের আয়ের নতুন সুযোগ
পরবর্তী নিবন্ধপশ্চিমবঙ্গে বাম-কংগ্রেসের ভরাডুবি