রক্তস্নাত মিয়ানমারে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছেই

7

আবার রক্তস্নাত মিয়ানমার। শনিবার সকালে জান্তার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন। ২ মাসে ৫৫০-এরও বেশি মানুষকে খুন করার অভিযোগে গোটা বিশ্ব তাদের নিন্দায় সরব। তার মধ্যে গত শনিবার একদিনে শতাধিক মানুষকে হত্যা করার পর থেকে মিয়ানমার সেনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আরও তীব্র আকার নিয়েছে। তবু তাতে কোনও হেলদোল সামরিক বাহিনীর।

শনিবার তিনটি বিক্ষিপ্ত জায়গায় গুলি চালানোর ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যুর কথা জানা গেছে। এর মধ্যে মনিওয়াতেই মারা গেছেন ৩ জন। এছাড়াও বাগো ও থাটন নামের অন্য দুই জায়গায় একজন করে আরও ২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

মনিওয়ার ঘটনায় চোখের সামনে একজনকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে মেসেজ বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, ‘তারা এলোপাথারি গুলি চালাতে শুরু করল। মানুষ পেছোতে শুরু করল। তাড়াতাড়ি ব্যারিকেডের আড়ালে চলে গেল। কিন্তু তারই মধ্যে একজনের মাথায় গুলি এসে লাগল। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেখানেই মারা গেলেন।’

সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে জান্তা ও পুলিশের কাছ থেকে এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তারা কোনও টেলিফোনেরই উত্তর দেয়নি।

১ ফেব্রুয়ারি আচমকাই দেশের শাসনক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেয় মিয়ানমার সেনা। পালটা ক্যু বা সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে পথে নামে দেশের আমজনতা। কোথাও তারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, তো কোথাও আবার শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছে।

রাজধানী নাইপিদাও থেকে শুরু করে ইয়াঙ্গুন পর্যন্ত প্রায় সমস্ত বড় শহরে রাস্তায় সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে সরব হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। আর তাদের থামাতে নির্বিচারে গুলিবৃষ্টি চালাচ্ছে জান্তা।

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে গত শনিবারের পর থেকেই। ওই দিন শতাধিক আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছিল জান্তা। তারপর থেকেই মিয়ানমারের প্রত্যন্ত এলাকার গেরিলা বাহিনীগুলি সেনার বিরুদ্ধে গোপন প্রতিরোধ শুরু করেছে। ২০ বা তার বেশি সশস্ত্র গেরিলা বাহিনী গর্জে উঠেছে জান্তার বিরুদ্ধে।

নিউজ হান্ট/আরকে