রক্ত ঝরাতে উন্মাদ হয়ে উঠেছে সরকার: ফখরুল

12

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, করোনাভাইরাসের মতো মহামারীর সময় জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় কাজ না করে, মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে রক্ত ঝরাতে উন্মাদ হয়ে উঠেছে সরকার।

তিনি বলেন, এদেশের সাহসী জনতা অতীতেও যেমন সকল স্বৈরাচারকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে, বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারকেও তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করতে রাস্তায় নেমে এসেছে। জনগণের আন্দোলনের গণজোয়ারে অবৈধ সরকারের মসনদ অতলে তলিয়ে যাবে।

আজ রবিবার (২৮ মার্চ) দেশব্যাপী গড়ে ওঠা আন্দোলনে অসংখ্য মানুষকে গুলিবিদ্ধ ও আহত করা, গ্রেপ্তার  এবং নিষ্ঠুর দমন-নিপীড়ণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

বিবৃতিতে মহাসচিব বলেন, ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বর্তমান আওয়ামী সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষের কন্ঠরোধ করতে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। জীবন কেড়ে নিয়ে জনগণের প্রতি আজ তারা প্রতিশোধ নিচ্ছে। জনগণের প্রতিবাদ-বিক্ষোভে দিশাহারা হয়ে মানুষ হত্যার মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার পুরো দেশকে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এর দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সরকারকেই বহন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে গুলি করার নির্দেশ দিয়ে এবং ক্ষমতাসীন দলের মাস্তানদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশের মানুষ এক জালিম সরকারের শাসনে বসবাস করছে।

ফখরুল বলেন, গত কয়েকদিন বিশেষ করে মহান স্বাধীনতা দিবস থেকে শুরু করে গত দুই দিনে ঢাকা, চট্রগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়ীয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুলি, তান্ডবের মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। আজও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংসতা ও নির্মমতার বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, আজ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বিক্ষোভরত জনতার ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণে মধুপুরের পীর আবদুল হামিদসহ অসংখ্য মানুষ গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকার সাইনবোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলি ও সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নিজ বাসাভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরীকে। এছাড়া দেশব্যাপী চলমান বিক্ষোভে আজ ঠাকুরগাঁও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুরুল হক নুরু, খুলনার যুবদল নেতা কামরুজ্জামান টুকসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। চান্দগাঁও থানা যুবদলের আহবায়ক গোলজার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাজিদ হাসান রনি এবং চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল নেতা মোঃ শহীদুজ্জামান ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে।

তিনি বিবৃতি বলেন, আমি আজ মধুপুরের পীর আবদুল হামিদসহ অসংখ্য মানুষকে গুলিবিদ্ধকারী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরীসহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

নিরীহ মানুষ হত্যা, দমন-নিপীড়ণ এবং গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে বিএনপি ঘোষিত আগামীকাল ২৯ মার্চ, সোমবার দেশব্যাপী সকল মহানগরীতে এবং ৩০ মার্চ মঙ্গলবার সকল জেলা সদরে বিক্ষোভ/মিছিল সফল করতে জনগণ এবং বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

নিউজ হান্ট/এনএইচ