রাজশাহীর আম চাষিদের স্বপ্নে কালবৈশাখীর হানা

6

মীর তোফায়েল হোসেন (রাজশাহী ব্যুরো প্রধান): প্রকৃতির বিরূপ আচরণে আম উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে রাজশাহীর আম চাষিরা। গাছে গাছে যখন স্বর্ণালী মুকুল ঠিক তখন হঠাৎ কয়েকদিনের কুয়াশা বাগানীদের কপালে চিন্তার ভাজ ফেলেছিল। চাষিদের নিবিড় পরিচর্যায়  সবুজ পাতার ভেতর থেকে উঁকি দিল আমের গুটি। ধীরে ধীরে পরিণত হলো কড়ালিতে। সে সময় বৃষ্টির দারুন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বৃষ্টিতো হলোই না বরং বাড়তে থাকলো রোদের তিব্রতা। ঝড়ে পড়তে লাগলো পরিনত কড়ালি। এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যখন কড়ালিগুলো বড় হচ্ছিল, ঠিক তখন নেমে এলো ঝড় আর শিলাবৃষ্টি। আরেকদফা ক্ষতি হলো, পাল্টে গেল সব হিসেব। ফিকে হয়ে গেল রাজশাহীর আম চাষিদের স্বপ্ন।

রাজশাহী জেলায় সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় বাঘা ও চারঘাট উপজেলায়। গেল রবিবার এ দুই উপজেলাতেই ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে।

আম চাষিরা বলছেন, প্রথম দিকে যে লাভের আশা তারা করেছিলেন, এখন তার অর্ধেক ভাবতে হচ্ছে।

এখন নতুন করে আশায় বুক বেঁধেরেছ এলাকার চাষিরা। শিলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত আমের কষ থেকে পোকার আক্রমন হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এই আম থেকে ভাল আমে যেন কীটপতঙ্গ ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য শিলাবৃষ্টির পর থেকেই বাগান পরিচর্যায়  নেমে পড়েছেন চাষিরা ।

চারঘাট উপজেলার বেশ কয়েক জন আম চাষি জানান, এবার কুয়াশা, অনাবৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির কারণে অর্ধেক আমেরও আশা করতে পারছেন না তারা। গত রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত একঘণ্টা শিলাবৃষ্টি হয়েছে। অথচ গত অক্টোবরের পর তাদের এলাকায় বৃষ্টি হয়নি। শিলার আঘাতে একেবারেই ফাকা হয়ে গেছে অনেক আম গাছ।

চারঘাটের রুস্তমপুর এলাকার মিনারুল ইসলাম জানালেন, তার দুটি বাগান আছে। সকালে বাগান দেখে এসেছেন। দুটি বাগানেই আমের কড়ালি অনেক ঝরে গেছে। শিলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত আম থেকে যেন ভাল আমে কীটপতঙ্গের আক্রমণ না হয় তার জন্য তিন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। ফলে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বাজারে ভালো দাম না পেলে প্রচুর ক্ষতির মুখে পরবেন বলেও জানান তিনি।

তবে রাজশাহী কৃষি বিভাগ বলছে,রোববারের শিলাবৃষ্টিতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়নি। যেগুলো ঝরেছে, সেগুলো এমনিতেই ঝরতো। এখন আম একটু পাতলা হয়েছে। এতেকরে আম আরও ভালভাবে বড় হবে। এগুলো আর ঝড়ে পড়বে না। উৎপাদন ঠিক থাকবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) উম্মে ছালমা। বলেন, রাজশাহীর ৯ উপজেলার মধ্যে শুধু বাঘা-চারঘাটেই একটু শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে দু’একটা আম ঝরলেও খুব বেশি ক্ষতি হবে না। আমের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ভাল।

রাজশাহী কৃষি বিভাগের তথ্য মতে জেলায় এ বছর ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে। গত বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। এবার বাগান বেড়েছে ৩৭৩ হেক্টর জমিতে। এ বছর হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জেলায় এ বছর মোট দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে।