রিকশাচালককে মারধর, নির্যাতনকারীকে খুঁজে বের করলো দুই থানার পুলিশ

138

রাজধানীর পুরান ঢাকার ধোলাইখাল এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে যাত্রী এনেছেন এক রিকশাচালক। যাত্রী নামিয়ে ভেজা অবস্থায় জিরিয়ে নিচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় এক বাসিন্দা এসে তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বলেন। বৃষ্টির কারণে যেতে আপত্তি করেন চালক। এতে রেগে যান ওই ব্যক্তি। যেতে না চাওয়ায় রিকশাচালককে গালাগাল ও মারধর করেন।

এক পথচারী এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছাড়লে সেটি ভাইরাল হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর নির্যাতনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকালে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ) মো. সো‌হেল রানা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকায় এক দরিদ্র রিকশাচালককে বিনা কারণে মারধর করছে এক লোক। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, লোকটি কিছু না বলে রিকশায় উঠেই টিপু সুলতান রোডে যাওয়ার জন্য রিকশাওয়ালাকে এক প্রকার হুকুম করছেন। রিকশাওয়ালা বৃষ্টিতে ভিজে মাত্রই একজন যাত্রী নিয়ে এসেছেন। সেই মুহূর্তে তিনি হয়তো কিছুটা জিরিয়ে নিতে চাচ্ছিলেন। রিকশাওয়ালা যেতে চাচ্ছিলেন না। যাত্রীকে তিনি অন্য একটি রিকশায় যেতে বলেন। কিন্তু, লোকটি তার রিকশাতেই যাবেন। তাকে নিয়ে যেতেই হবে। এক দুই কথায় তিনি রিকশাওয়ালাকে বিশ্রী ভাষায় গালি দিতে থাকেন এবং একই সঙ্গে নির্বিচারে তার মাথায় ও গালে জোরে জোরে আঘাত করতে থাকেন। উপস্থিত দু’একজন রিকশাচালককে এমন নির্যাতনের বিরোধিতা করলেও যাত্রী লোকটি তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি।

রিকশাচালককে নির্যাতনের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং এর দৃষ্টিতে আনেন একজন সংবাদ কর্মী। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই মিডিয়া উইং সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাস্থল চিহ্নিত করে।

জানা যায়, ঘটনাস্থলটি সূত্রাপুর থানার এবং ওয়ারি থানার সীমান্তবর্তী একটি স্থান। দ্রুততম সময়ে অভিযুক্ত নির্যাতনকারীকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করতে দুই থানাকেই নির্দেশনা দেয় মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং। অল্প সময় পরেই নিশ্চিত হওয়া যায় স্থানটি ওয়ারী থানা এলাকার মধ্যে। এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে দুই থানার মধ্যে সমন্বয় করে দেয় মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ওয়ারি থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান এবং সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্নেহাশীষ রায়ের তৎপরতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দুই দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অবশেষে, শুক্রবার বিকালে পুরান ঢাকার লালমোহন সাহা স্ট্রিটের একটি বাড়ি থেকে ওই নির্যাতনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশের মিডিয়া উইং’র এই কর্মকর্তা।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধজামালপুরে বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধবজ্রপাতে দুই জেলায় নিহত ৯