রোববার বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২২ জনের

17

রোববার সারাদেশে বজ্রপাতে ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জে পাঁচজন করে, ফেনীতে দুজন, পটুয়াখালীতে দুজন, সাতক্ষীরায় দুজন এবং মাদারীপুর, নোয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, বরিশাল ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের মিরসরাই, বোয়ালখালী, ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ড উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন- মিরসরাইয়ের সাহেরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর পূর্ব ডোমখালী ওয়ার্ড এলাকার স্কুলছাত্র সাজ্জাদ হোসেন (১৬), বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর (৩৯), ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর মানিকপুর ওয়ার্ডের ডলুরপাড়া এলাকার যোগেন্দ্র শীলের স্ত্রী ভানুমতি শীল (৪০), বাণেশ্বর দাশের স্ত্রী লাকি রানি দাশ (৩৮) ও সীতাকুণ্ড উপজেলার বার আউলিয়া এলাকার সীতাকুণ্ড উপজেলার বার আউলিয়া এলাকার আব্দুল কাদেরের বাড়ির মৃত নুরুল আলমের মো. জলিল আহাম্মদ (৪০)। এ চার উপজেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন।

সিরাজগঞ্জ
বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর ও বেলকুচি উপজেলায় বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন- উল্লাপাড়ার আগদিঘল গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্র ফরিদুল ইসলাম, বেলকুচির চর সমেশপুর গ্রামের লাইলি বেগম, সলঙ্গার আঙ্গারু গ্রামের রফিকুল ইসলাম, শাহজাদপুর উপজেলার চর আঙ্গারু গ্রামের কৃষক জুয়েল রানা ও বাতিয়া গ্রামের কৃষক আলহাজ পণ্ডিত।

ফেনী
জেলার সোনাগাজীতে বজ্রপাতে দুই শিশু নিহত হয়েছে। বেলা ১১টায় উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের আলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সাজেদা আক্তার (১২) ও আল আমীন (৬)। সাজেদা ওই গ্রামের আনু ফরায়েজি বাড়ির সোলেমান মিয়ার মেয়ে ও আল আমীন একই বাড়ির বাহার উদ্দিনের ছেলে। তারা দুজনই স্থানীয় কাটাখিলা ছমদিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী।

পটুয়াখালী
পটুয়াখালী সদর ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে মির্জাগঞ্জের মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম তাড়াবুনিয়া গ্রামে আব্দুল জলিল ও সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া গ্রামে মজিদ হাওলাদার বজ্রপাতে মারা যান।

বরিশাল
বিকেল বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রামে বজ্রপাতে নান্টু বালী (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার ইউনুস বালীর ছেলে ।

চুয়াডাঙ্গা
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইথনপুর গ্রামের দক্ষিণ মাঠে বজ্রপাতে কোরবান আলী (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি একই উপজেলার রুইথনপুর গ্রামের মৃত ফকির আলীর ছেলে।

সাতক্ষীরা
বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া ও তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নে হরিণখোলা গ্রামে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরও তিনজন। মৃতরা হলেন- হরিণখোলা গ্রামের আশুতোষ মন্ডলের ছেলে কিশোর মন্ডল (৩৮) ও চৌবাড়িয়া গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে রাবেয়া খাতুন (২০)। আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

মাদারীপুর
জেলার শিবচরে বাদাম তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে আয়েশা বেগম (৫০) নামের এক নারী নিহত হন। বিকেল ৪টায় উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের বালুরটেকে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহত আয়েশা একই এলাকার ছোরফান হাওলাদারের স্ত্রী।

নোয়াখালী
জেলার হাতিয়ায় ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মো. আবদুল মান্নান খোকন (৩৬) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন। দুপুর সাড়ে ৩টায় উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মাইসচরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোকন একই গ্রামের মৃত সৈয়দ আহমদ মুন্সীর ছেলে।

মুন্সিগঞ্জ
জেলার সিরাজদিখানে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে অপূর্ব বর্মন (১৯) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। বিকেল ৪টায় উপজেলার শেখরননগর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুজন। নিহত অপূর্ব উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের জেলেপাড়া গ্রামের স্বপন বর্মনের ছেলে ও আলী আজগর অ্যান্ড আব্দুল্লাহ কলেজের এইচএসসির পরীক্ষার্থী।

মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের ঘিওরে বজ্রপাতে মো.শাহীন হোসেন (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘিওর উপজেলার বৈলট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত শাহীন হোসেন ঘিওর সদর ইউনিয়নের মুক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি শিবালয়ের মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

 

পূর্ববর্তী নিবন্ধনাটোরে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ভূমি সেবা সপ্তাহ শুরু
পরবর্তী নিবন্ধআসছে তুমুল বর্ষণ