লকডাউনেও থামছে না করোনার দাপট

8

এসএম শহীদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা: প্রশাসন ও পুলিশের কড়া নজরদারিতে সাতক্ষীরায় চলছে লকডাউন। সাধারণ মানুষকে ঘরে ফেরাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবু ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণ।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আন্ত:জেলা ও দুরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। শহরে কড়া লকডাউন চললেও গ্রামাঞ্চল রয়েছে ফাঁকা। এদিকে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে সীমান্ত এলাকা থেকে ৩ জনকে আটক করেছে বিজিবি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল আল মাহমুদ জানান, সাতক্ষীরা সীমান্ত পথে বৈধ-অবৈধ যাতায়াত পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সীমান্তজুড়ে টহলে রয়েছে বিজিবি সদস্যরা। ভারত থেকে অবৈধ পথে আসার সময় সদরের পদ্মশাখরা সীমান্তে তিনজন বাংলাদেশিকে আটক করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন শেষে তাদেরকে কলারোয়া থানায় সোপর্দ করা হবে। এনিয়ে গত এক সপ্তাহে পাসপোর্টবিহীন ৩৯ জন ও দুই পাচারকারিকে আটক করেছে বিজিবি।

আটককৃতরা হলেন, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার উত্তর পারুলিয়া গ্রামের শেখ নুর মোহাম্মদের ছেলে ইউসুফ আলী (৪৫), একই উপজেলার খেজুরবাাড়িয়া গ্রামের হায়দার সরদারের ছেলে আজাহারুল ইসলাম (২১) ও একই গ্রামের রফিকুল সরদারের ছেলে রুহুল আমিন (২৪)।

লকডাউন সফল করার বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লকডাউন চলাকালে সাতক্ষীরার সাথে খুলনা ও যশোরের সংযোগস্থলে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে একইভাবে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। শহরের কয়েকটি প্রবেশপথ একেবারে বন্ধ করা হয়েছে। ভোমরা স্থলবন্দরে আসা ভারতীয় ট্রাক চালক ও হেলপারদের বন্দরে খোলামেলা চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

লকডাউন ২ সপ্তাহ একটানা সফলতার সাথে চালালে করোনা সংক্রমণ কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

সাতক্ষীরা শহরের ন্যাশনাল হাসপাতাল, সংগ্রাম হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল ও বুশরা হাসপাতাল করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি করা বন্ধ করে দিয়েছেন। শহরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে সোমবার ৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিলেন। সিবি হসপিটালে ভর্তি ছিলেন করোনা আক্রান্ত ৩ জন এবং উপসর্গে আরও ৭জন। তবে জেলা স্বাস্থ্য ভিাগের অনুসন্ধানে সেখানে সোমবার কমপক্ষে ২২ জন রোগী ভর্তি ছিলেন বলে জানা গেছে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২০ শয্যার করোনা ইউনিট রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে আট শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং আট শয্যার হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ), কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা (এইচএফএনসি)। একইভাবে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রয়েছে ৪০ শয্যার করোনা ইউনিট। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। বড় ২৮টি ও ছোট ৭৪টি সিলিন্ডার রয়েছে। অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে রোগীদের পাইপ সিস্টেমের মাধ্যমে। তবে কোনো হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা নেই। নেই ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা: হুসাইন শাফায়াত বলেন, সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘন্টায় কেউ মারা না গেলেও ১৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০৩টি করোনা পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। শতকরা হিসেবে সংক্রমনের হার দাঁড়ায় ৫৫ ভাগ।

এর আগের ২৪ ঘন্টায় ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫০জন করোনা পজিটিভ সনাক্ত হয়েছিলেন। শতকরা হারে তা ৫৩ ভাগেরও বেশি। ৫ জুন ১৮৮ জনের পরীক্ষার বিপরীতে ৮৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শতকরা হিসেবে যা ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ। করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২২৯ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৮ জন।
তিনি আরও জানান, জেলায় এ পর্যন্ত করোনার সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৩৭১ জন। এছাড়া হাসপাতালে ১৩৫ জনের বিপরীতে করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪৮জন। ৮টি আইসিইউ বেডে করোনা পজিটিভ রোগীরা ভর্তি আছেন। জেলায় এ পর্যন্ত ১৯৮৯ জন রোগী পজিটিভ সনাক্ত হয়েছেন। সাতক্ষীরায় ২ সপ্তাহ লকডাউন চললে কাক্সিক্ষত ফলাফল আসবে বলে জানান সিভিল সার্জন। করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন সফল করতে পুলিশী তৎপরতার পাশাপাশি জেলাব্যাপী চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম।

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, সর্বশেষ লকডাউনের তিনদিনে ৪১টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২১৭টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনাটোর সদর ও সিংড়ায় ৭ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন
পরবর্তী নিবন্ধসাতক্ষীরায় করোনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু