লকডাউনে বন্ধ থাকবে গণপরিবহন

35

লকডাউনে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, আগামীকাল সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে পণ্যপরিবহন, জরুরি সেবা, জ্বালানি, ঔষধ, পচনশীল, ত্রাণবাহী পরিবহন, সংবাদপত্র, গার্মেন্ট সামগ্রী এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

আজ (৪ এপ্রিল) সরকারি বাসভবন থেকে এক সংবাদ বিফ্রিংয়ে এ কথা জানান সেতুমন্ত্রী।

এর আগে শনিবার তিনি জানিয়েছিলেন, আগামী সোমবার থেকে দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন চলবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানাবে।

ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি লকডাউন দেয়ার কথা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘দ্রুত বেড়ে যাওয়া করোনার সংক্রমণ রোধ করার স্বার্থে সরকার দু-তিন দিনের মধ্যেই সারা দেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

‘লকডাউন চলাকালে শুধু জরুরি সেবা দেয়, সে ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে। আর শিল্প-কলকারখানা খোলা থাকবে, যাতে শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং বিভিন্ন শিফটিংয়ের মাধ্যমে কলকারখানায় কাজ করতে পারেন।’

অবশ্য সরকারের মন্ত্রিসভার দুই সদস্য লকডাউনের কথা জানালেও এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পরও বাংলাদেশ লডকাউনের পথে হাঁটেনি। তবে ২৬ মার্চ থেকে ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত ধাপে ধাপে দেয়া হয় সাধারণ ছুটি।

এর মধ্যে লম্বা একটা সময় করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গরম শুরুর পর থেকেই দেশে ক্রমেই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক এবং জনসমাগমে বিধিনিষেধ টেনে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। গণপরিবহনগুলোতে যাত্রী কম বসানোর নির্দেশনা দিয়ে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ৬০ শতাংশ। ভাড়া বাড়ানো হয়েছে লঞ্চেও।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৫ হাজার ৬৮৩ জনের শরীরে। আর মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৭। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ২১৩ জনের।

নিউজ হান্ট/ম