শিক্ষকদের বন্ধ থাকা প্রশিক্ষণ ভাতা নিয়ে যা বললেন মহাপরিচালক

229

বিশেষ প্রতিবেদন:

প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে মাসিক প্রশিক্ষণ ভাতা। এ কারণে নতুনভাবে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে শিক্ষকদের মাঝেও।

জটিলতা নিরসনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে নিউজ হান্টকে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, একজন সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষককে দেড় বছরে ডিপিএড কোর্সটি করা বাধ্যতামূলক। প্রতি মাসে সরকার থেকে প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষককে তিন হাজার করে টাকা দেয় সরকার। তবে এখনো ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী অনেক শিক্ষক গত এক বছর ভাতার টাকা পাননি। এমন কি এ টাকা পাবেন কি-না তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। যে কারণে প্রশিক্ষণ ভাতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক কিট এলাউন্স বাবদ ১৮ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা পেয়ে থাকে। ছয় মাস পর পর এ টাকা তাদেরকে দেয়া হয়। কিন্তু অনলাইনে এবার কোর্স নেয়ায় অনেক শিক্ষককে এ টাকা এখনো দেয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ডিপিএড কোর্স শুরু হয়ে প্রায় শেষের পথে। শিক্ষাবর্ষের সরাসরি কার্যক্রম চলেছে গত বছরের ১৬ মার্চ পর্যন্ত। করেনাভাইরাসের কারণে ১৭ মার্চ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য কার্যক্রম বন্ধ হয় এবং ১ জুলাই থেকে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে ডিপিএড কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।

প্রশিক্ষণার্থীদের মাধ্যমে জানা যায়, কেউ কেউ তিন মাসের প্রশিক্ষণ ভাতা পেয়েছেন। অথচ ডিসেম্বর মাসের পরেও পরবর্তী ভাতার খোঁজ নেই।

এ নিয়ে ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, কিছু কিছু পিটিআইয়ের শিক্ষকদের ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে ভাতার টাকা দেয়ার পরে আর তারা ভাতা পায়নি। আবার অনেক পিটিআইয়ের প্রশিক্ষণার্থীরা গতবছরের জুন মাসে সর্বশেষ ভাতার টাকা পেয়েছেন। তারপর আর ভাতার টাকা দেয়া হচ্ছে না।

ডিপিএড প্রশিক্ষার্ণী শিক্ষক শিপন গোরামি বলেন, আমাদের গতবছর থেকে অনলাইনে প্রশিক্ষণ হচ্ছে। এতে আমাদের ওপর আর্থিকভাবে চাপ পড়েছে। অনেক শিক্ষককে স্মার্টফোন কিনতে হয়েছে। শিক্ষকদের নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে ব্রডব্যান্ড লাইন নিতে হয়েছে। অনেককে মডেম কিনতে হয়েছে। এতে সাধারণ প্রশিক্ষণের সময় যে খরচ ছিল অনলাইন প্রশিক্ষণে তা আরও বেড়েছে। কিন্তু গতবছর থেকে প্রশিক্ষণ ভাতা বন্ধ থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি।

প্রশিক্ষণার্থীরা বলেছেন, ভাতার টাকা পাওয়া আমাদের অধিকার। ভাতার টাকা বন্ধ থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে দাবি রাখছি দ্রুত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ভাতার টাকা পরিশোধ করবার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সমাজের সভাপতি শাহিনুর আলআমিন বলেন, প্রশিক্ষণ ভাতা শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার। এ টাকা অবশ্যই শিক্ষকদের দিতে হবে। শিক্ষকরা অনলাইনে প্রশিক্ষণ হওয়ায় শিক্ষকদের খরচ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ ভাতার টাকা দ্রুত পরিশোধ না করে তা আটকে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত এ জটিলতা নিরসন করার দাবি জানাচ্ছি।

নিউজ হান্ট/ম

পূর্ববর্তী নিবন্ধটিকার দাম জানাজানি: দুঃখ প্রকাশ করে চীনকে চিঠি
পরবর্তী নিবন্ধজুনে হতে পারে সাত কলেজের পরীক্ষা