শিগগিরই চালু হচ্ছে পায়রা সেতু, খুলবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির দ্বার

37

পটুয়াখালী থেকে মো: জাকির হোসেন: পটুয়াখালীর লেবুখালী নদীতে নির্মাণাধীন লেবুখালী সেতু চলতি বছরের অক্টোবরের আগেই যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে। সড়ক ওজনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: আব্দুস সবুর এ তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার পটুয়াখালীর লেবুখালী সেতু পরিদর্শন করেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: আব্দুস সবুর। তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই যান চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। সেতুটি এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এটি বরিশাল-পটুয়াখালীকে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের সাথে সরাসরি যুক্ত করবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আগামী অক্টোবর মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও আমরা জুলাই মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য টার্গেট দিয়ে দিয়েছি। তবে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি। দুই শিফটে কাজ করে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। করোনাকালীন লকডাউনের মধ্যেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে গেছে। বর্তমানে সেতুর প্রায় ৯৫ ভাগ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। পায়রা সেতুটি হচ্ছে আধুনিক মানের ফোরলেন বিশিষ্ট সেতু।

পায়রা সেতুর প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হালিম জানান, প্রধান প্রকৌশলী মো: আব্দুস সবুর লেবুখালী নদীর উপর পায়রা সেতুর ঘুরে দেখেন এবং পরবর্তীতে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের পায়রা নদীর উপর পায়রা সেতু (লেবুখালী সেতু) নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ক এক পর্যালোচনা সভায় জুলাই মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার নির্দেশনা প্রদান করেন। আমরা আশা করছি ব্রিজের নির্ধারিত সময় অক্টোবরের আগেই আমরা যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারবো।

নির্মাণাধীন পায়রা (লেবুখালী) সেতুতে পদ্মাসেতুর থেকেও ৫০ মিটার বড় দুইটি স্প্যান বসানো হবে। নান্দনিক এক্সটাডোজ ক্যাবল বক্স গার্ডার ব্রিজটিতে নদীর মধ্যে মূল ব্রিজ হবে ৬৩০ মিটার। এজন্য ২০০ মিটারের ২টি স্প্যান ও দু’পাশে ২টি স্প্যান ১১৫ মিটার করে হবে। যা দেশের সবচেয়ে বড় সেতু পদ্মার ব্রিজের স্প্যানের থেকেও বড়।

চার লেনবিশিষ্ট ১,৪৭০ মিটার (৪,৮২০ ফুট) দৈর্ঘ্যরে ১৯.৭৬ মিটার (৬৪.৮ ফুট) এক্সট্রা বক্স গার্ডার ব্রিজটির উভয়দিকে ৭ কিলোমিটারজুড়ে নির্মাণ করা হবে অ্যাপ্রোচ সড়ক। ব্রিজটির প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৪৬ কোটি টাকা।

এছাড়াও সেতুটি নদীর জলতল থেকে ১৮.৩০ মিটার উঁচু হবে। ফলে নদীতে নৌযান চলাচলে কোনো অসুবিধা হবে না। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত হবে সেতুটি।

বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পায়রা নদীর উপর ‘লেবুখালী সেতু’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির দার উন্মুক্ত হচ্ছে সর্বদক্ষিণের।

২০১২ সালের ৮ মে একনেক সভায় প্রকল্পটি সরকারের অনুমোদন লাভ করে এবং ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা নদীর উপর পায়রা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পায়রা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

দক্ষিণাঞ্চলকে সারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সমানতালে এগিয়ে নিতে এই ব্রিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সেতু ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলকে ঘিরে পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ একাধিক মেগা প্রকল্পের কাজ শেষের পথে রয়েছে। পায়রা সেতু চালুর মাধ্যমে বন্দর থেকে খালাসকৃত যেকোনো পণ্য খুবই কম সময়ের মধ্যে সড়ক পথে সারাদেশে পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাঁধা ছিল লেবুখালী নদীর ফেরী।

পায়রা সেতুর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে পাশাপাশি এ অঞ্চলে নতুন নতুন বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে একদিকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যেমন এখানকার মানুষের জীবন যাত্রার পরিবর্তন হবে।

পটুয়াখালী চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, লেবুখালীতে পায়রা নদীর সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে পটুয়াখালী তথা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হবে। পাশাপাশি মাওয়া সেতুর উদ্বোধন হলে এ অঞ্চলের সাথে সারাদেশের সরাসরা যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে। ইতোমধ্যে চলমান মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন করে ইপিজেড করার কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, দেশী বিদেশী বিনোয়গকারীরা বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে। যা একসময়ের অবহেলিত পটুয়াখালীকে সম্ভাবনার পটুয়াখালীতে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধনাটোরের প্রবীণ সাংবাদিক মাহফুজ আলম মুনি প্রয়াত
পরবর্তী নিবন্ধনওগাঁয় কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকরে তৎপর প্রশাসন