সরকারের দৃষ্টি মেগাপ্রকল্পেই

9

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে ২৬টি মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। গত ১২ বছরে সড়কের উন্নয়নে বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৩৩১টি প্রকল্প। চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে ৪৫৩ কিলোমিটার মহাসড়ক। নতুন প্রকল্প নিয়েছে আরও ৪৫২টি। তাই আসছে বাজেটে সেতু বিভাগের জন্য ৯ হাজার ৮২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৭ কোটি টাকা পরিচালনব্যয় বাদে বাকিটা খরচ হবে উন্নয়ন প্রকল্পে। সেতু বিভাগের বরাদ্দের বড় অংশই যাবে পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে।

রেলে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। গত বাজেটে এর আকার ছিল ১৬ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমে হয় ১৫ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। রেলে বাজেটের ২২ শতাংশের বেশি অর্থাৎ ৩ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা যাবে ট্রেন পরিচালনা ও বেতন-ভাতায়। ১৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ ও ‘দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ’, যমুনা নদীর ওপর ‘বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পে যাবে উন্নয়ন বরাদ্দের বড় অংশ।

এ ছাড়া নৌপরিবহন খাতে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা, বিমান পরিবহনে ৪ হাজার ৩২ কোটি টাকা এবং টেলিযোগাযোগে ২ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিমান খাতের বরাদ্দের বড় অংশ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হবে।

‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ নির্মাণ প্রকল্প ২০২১-২২ অর্থবছরে বরাদ্দ পাচ্ছে ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা, যা এই অর্থবছরে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ঢাকা থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত এই প্রকল্পটি রাশিয়ার সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে এখান থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে এবং ২৪ থেকে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করবে প্রকল্পটি। এ কাজে রাশিয়া দিচ্ছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত এ প্রকল্পের কাজ আগামী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে।

মাতারবাড়ী ৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল পাওয়ার প্রজেক্ট পেয়েছে প্রায় ৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) পেয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু রেলসংযোগ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প পেয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে মোট ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প পেয়েছে ৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (সংশোধিত) প্রকল্প পেয়েছে ২ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা।

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরের বাজেটেও পরিবহন ও যোগাযোগ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে ৭২ হাজার ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। আগের বাজেটে তা ছিল ৬৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে বরাদ্দ করা হয় ৬০ হাজার ১১০ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে আধুনিক ও নিরাপদ যোগাযোগ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। সে লক্ষ্য পূরণে সড়কপথ, সেতু, রেলপথ, নৌপথ ও আকাশপথে ধারাবাহিক ও সমন্বিত বিনিয়োগের মাধ্যমে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরিতে নিরলস কাজ করছে সরকার।’

নিউজ হান্ট/ম

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাজশাহী মেডিকেলের করোনা ইউনিটে আরো ১৬ মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধসৌন্দর্যচর্চায় বরফ ও বাষ্প