সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিদেশে চিকিৎসার নজির দেশেই আছে: ফখরুল

12

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খোঁড়া যুক্তি দিয়ে সরকার বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘উন্নত চিকিৎসার’ জন্য বিদেশ নিয়ে যেতে অনুমতি দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার নজির দেশেই আছে।

আজ মঙ্গলবার (১১ মে) দুপুরে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, সরকার বলছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতির এমন নজির নেই। কিন্তু ১৯৭৯ সালে আমাদের প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আব্দুর রব জেলে ছিলেন। তখন জিয়াউর রহমান দায়িত্বে ছিলেন। পরে তাকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে দেশে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাজা মাফ করে দিয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। এমন আরও অনেক আছে, আমি নাম বলবো না। অত্যন্ত উচ্চপদস্থ প্রভাবশালী সরকারের কর্মকর্তাই বলব, তার দুই সহোদর ভাই আইনের এই ৪০১ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাদেরকে মাফ করে দিয়ে দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে। কেনো খালেদা জিয়ার বিষয়ে খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছেন। সোজা বলে দেন যে আমরা তাকে (বিদেশে যেতে) অনুমতি দেবো না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ক্রিটিক্যাল থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শে দেশের বাইরে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। বেগম জিয়াকে দেশের বাইরে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে সরকার খারাপ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।

মহাসচিব বলেন, বেগম জিয়া দেশের বাইরে গিয়ে রাজনীতি করবেন, দেশে ফিরবেন না-এটা একটি ভ্রান্ত ধারণা।

সমালোচনাকারীদের সংযত হয়ে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে সমালোচনা করেন তারা বেগম জিয়ার পায়ের নখের যোগ্য নয়।

তিনি বলেন, রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্যই বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে শুরু থেকেই সংযতভাবে কথা বলা হয়েছে। কিডনি ও হার্টের সমস্যা নিয়ে ডাক্তাররা উদ্বিগ্ন। তবে তার অবস্থা এখনও ক্রিটিক্যাল। অক্সিজেন স্যাচুরেশন নরমালে নেমে আসছে।

বিচার ব্যবস্থায় দ্বৈত নীতির কারণেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামিন পাননি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করায় সরকারের লক্ষ্য।

নিউজ হান্ট/এনএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধইসরাইলি বিমান হামলায় ২৪ ফিলিস্তিনি নিহত, নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক
পরবর্তী নিবন্ধরাশিয়ায় স্কুলে গুলিতে ৮ শিশুসহ নিহত ১১