সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গে আরও চার জনের মৃত্যু

6

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার নৈকাটি গ্রামের কালাচাঁদের ছেলে আব্দুস সামাদ শেখ (৫৫), একই উপজেলার জয়নগর গ্রামের তলেন বক্স (৮০)। সাতক্ষীরা সদরের রাজারবাগান এলাকার নজিব আলী মিস্ত্রি (৭০) ও একই উপজেলার আখড়াখোলা গ্রামের মিজানুর রহমান (৫০)।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১০৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ১৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। শনাক্তের হার ৫৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জেলায় একদিনে এটিই সর্বোচ্চ করোনা শনাক্তের হার।

এদিকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ২ হাজার ৯৭ জনের শরীরে করোনা করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৯ জন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২৩৭ জন।

জেলায় করোনা পরিস্থিতি রীতিমত ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। গত ১ জুন থেকে ৭ দিনে সাতক্ষীরায় মোট ৯৩২ জনের পরীক্ষা করে ৪৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যা শতকরা হিসাবে ৫১ দশমিক ৩৯ ভাগ। এর পূর্বে মে মাসের ৩১ দিনে সাতক্ষীরা পিসিআর ল্যাবে ১৩৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩০৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শতকরা হিসাবে ২২ দশমিক ৫১ ভাগ। এরপূর্বে ২০২০ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে সাতক্ষীরা জেলায় করোনা শনাক্ত হয় ১৩১৩ জন।

এদিকে গত ১ জুন সাতক্ষীরা পিসিআর ল্যাবে ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৯ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। ২ জুন ৯৪ জনে পাওয়া যায় ৫০ জন, ৩ জুন ৯৩ জনে পাওয়া যায় ৫০ জন, ৪ জুন ১৮৮ জনে করোনা পজিটিভ হয় ৮৯ জন। ৪ জুন শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ৫ জুন কোন নমুনা পরীক্ষা হয়নি। ৬ জুন ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫০ জনের পজিটিভ পাওয়া যায়। ৭ জুন নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৮৭ জনের। পজিটিভ পাওয়া যায় ১০৩ জন। সর্বশেষ ৮ জুনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০৮ জনের পজিটিভ পাওয়া যায়। অর্থাৎ জুন মাসের ১ তারিখ ছাড়া আর প্রতিদিনই শনাক্তের হার ছিল ৫০ শতাংশের বেশি। এরমধ্যে বর্তমানে ৫১৮জন করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে করোনা আক্রান্ত ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক তথ্য সরবরাহ না করায় সাতক্ষীরা জেলা শহরের সিবি হসপিটাল, ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল, সংগ্রাম হাসপাতাল, বুশরা হাসপাতাল, হার্ট ফাউন্ডেশন ও ন্যাশনাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে নোটিশ দেয়া হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এই সতর্ক বার্তা প্রদান করে।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসাইন সাফায়াত জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। দিন দিন করোনার ঊর্ধ্বগতি হচ্ছে সাতক্ষীরায়। গত শনিবার (০৫ জুন) থেকে জেলাব্যাপী কঠোর লকডাউন চলছে। লকডাউনের ফলে করোনা পরিস্থিতি কমছে কিনা সেটি জানা যাবে ১৪ দিন পর।

অপরদিকে এমন পরিস্থিতিতে করোনার ঊর্ধ্বগতি টানতে প্রশাসনকে কিছুটা কঠোর হতে দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে চলছে তল্লাশি। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। ভোমরা স্থলবন্দরেও সীমিত পরিসরে চলছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। তবে ভারতীয় চালক ও হেলপাররা যাতে খোলামেলা ঘুরে বেড়াতে না পারেন সে জন্য পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এছাড়াও লকডাউনের মধ্যে দোকানপাট খোলা রাখা, স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ বিভিন্ন অপরাধে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আল মাহমুদ জানান, সীমান্তে বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অতিরিক্ত এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির সদস্যরা গত ২৮ এপ্রিল ২০২১ হতে ৮জুন পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারী, টহল তৎপরতা এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশের প্রাক্কালে সর্বমোট ৪৫ জন বাংলাদেশী নাগরিক এবং ৩ জন মানব পাচারকারী আটক করেছেন।

আটককৃত বাংলাদেশী নাগরিকদেরকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সদর উপজেলার পদ্মশাখরা প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়ীয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে প্রেরণ করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন শেষে আটককৃত নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হবে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিক্ষা আইন চূড়ান্ত, শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদে যাচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধবরগুনায় রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ