সিসিইউ থেকে কেবিনে খালেদা জিয়া

8

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকালে তাকে হাসপাতালের কেবিনে নেওয়া হয় বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে এখনো করোনা পরবর্তী বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। তাই হাসপাতাল থেকে আপাতত বাসায় ফিরছেন না। পুরোপুরি সুস্থ হলেই তাকে বাসায় নেওয়া হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আজ জানান, বিকেল সাড়ে ৫টায় খালেদা জিয়াকে সিসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে কেবিনে নেওয়ার।

চিকিৎসক বলেন, ‘কেবিনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলবে। এখানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে বলা যাবে কবে, কখন গুলশানের বাসা ফিরোজায় নেওয়া যাবে।’

ডা. জাহিদ হোসেন আরও জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। বেশ কয়েখদিন আগেই তাঁর সব অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হার্টের অবস্থা বেশ ভালো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, ফুসফুসে এখন আর পানি জমে না। আথ্রাইটিসসহ আগের যেসব সমস্যা আছে সেগুলো নিয়ে এখন চিকিৎসা চলবে।

খালেদা জিয়া এখন স্বাভাবিক কথা বলতে পারেন বলেও জানান এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, তিনি হাঁটতেও পারেন। তবে সঙ্গে একজন থাকেন। খালেদা জিয়ার যেসব সমস্যা রয়েছে তা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। এখন তাকে বিদেশে বা কোনো হায়ার সেন্টারে নিয়ে দীর্ঘসময় চিকিৎসা করাতে পারলে তিনি ভালো সুস্থ হয়ে উঠবেন।

গত ১১ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ৩ মে তার শ্বাস কষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে স্থানান্তর করা হয়। ৮ মে তৃতীয় দফা নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা ফল নেগেটিভ আসে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা তাকে বিদেশ নেওয়ার সুপারিশ করেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বিদেশ যাওয়ার অনুমিত চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্ত শেষ পর্যন্ত সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেননি।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধকল্পনাপ্রসূত, মনগড়া এবং অবাস্তব বাজেট: জিএম কাদের
পরবর্তী নিবন্ধসংকটকালীন সময়োপযোগী বাজেট: ওবায়দুল কাদের