সেই শুভেন্দু এই শুভেন্দু

61

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পেয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। পরিহাসের বিষয় হলেও নানা নাটকীয়তার পর হেরে গেছেন স্বয়ং মমতা। বিধায়ক নির্বাচিত না হওয়ায় তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

ভোট গণনা বন্ধ ও স্থগিতের পর নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। তার এক সময়ের ‌‘ডানহাত’ ও সম্প্রতি দল বদলে বিজেপিতে যাওয়া শুভেন্দুর ‌কাছে হেরেছেন মমতা।

বিশাল জয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো তৃণমূল রাজ্যে সরকার গঠনের জনরায় পেলেও মমতা বন্দোপাধ্যায় কি রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন। মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে দেখতে হবে দেশটির সংবিধান এ সম্পর্কে কি বলা হয়েছে।

ভারতীয় সংবিধানের ১৬৩ ও ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে হলে ভারতের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২৫ বা তার বেশি। এছাড়া হতে হবে বিধানসভার সদস্য। তবে শর্তসাপেক্ষে বিধানসভার সদস্য না হয়েও মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যাবে।

বিধানসভার সদস্য না হয়েও কেউ যদি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন, সেক্ষেত্রে তাকে নিতে হবে রাজ্যপালের অনুমতি। হেরে যাওয়ার পরওদল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবং দলের বিধায়করা কাউকে নেতা নির্বাচিত করলে তার মুখ্যমন্ত্রী হতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

তবে ভোটে না জিতেও মুখ্যমন্ত্রী হলে তাকে ওই পদে বসার ১৮০ দিন অর্থাৎ ছয় মাসের মধ্যে যে কোনো একটি আসন থেকে জিতে আসতে হবে। তা না পারলে ছেড়ে দিতে হবে পদ। ফলে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সাংবিধানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী হতে কোনো বাধা নেই।

এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে এবার প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ার দুটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। ফলে এর মধ্যে একটি আসনে ছয় মাসের মধ্যে জিতে এলেই মমতার মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার বাধা কাটবে।

নিউজ হান্ট/ম

পূর্ববর্তী নিবন্ধকী খেল দেখালেন ‘দিদি’
পরবর্তী নিবন্ধধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়