সৌজন্য সাক্ষাতে শেখ হাসিনা-লোটে শেরিং

14

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং।

বুধবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে শুরু হয় এ বৈঠক।

আজ বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে যোগ দেবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। এদিন বঙ্গভবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন লোটে শেরিং। তিন দিনের সফর শেষে আগামীকাল সকালে ভুটানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি।

এর আগে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে যোগ দিতে ঢাকায় আসেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। মঙ্গলবার সকালে তাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী করমর্দন না করে দূরত্ব বজায় রেখে তারা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিমানবন্দরে লোটে শেরিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাকে স্বাগত জানানো হয় ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে শেখ হাসিনা অভ্যর্থনামঞ্চে পৌঁছলে তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল গার্ড অব অনার দেয়। গার্ড পরিদর্শন শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে লাইন অব প্রেজেন্টেশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমেদ কায়কাউস এবং তিন বাহিনীর প্রধান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানের আগমন উপলক্ষ্যে বিমানবন্দর এলাকা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। টার্মিনালের উপরে এবং সামনে ছিল বাংলাদেশ ও ভুটানের পতাকার সজ্জা। দুই পাশে দুই সরকারপ্রধানের ছবিও স্থাপন করা হয়।

বিমানবন্দর থেকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান। সেখানে লোটে শেরিংকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল শাহীনুল হক, ঢাকার পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট মো. মারুফ হোসেন সরদারসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা। তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকশ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। স্মৃতিসৌধে লোটে শেরিং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এতে তিনি লেখেন : ‘মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশের সাহসী সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমার জন্য সম্মানের বিষয়। তাদের এই ত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় সমুজ্জ্বল থাকুক।’

স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে তিনি একটি লটকনের চারা রোপণ করেন। এরপর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যান। বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা তাকে অভ্যর্থনা জানান। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে লোটে শেরিং জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তিনি পরিদর্শন বইয়ে লেখেন, ‘বিদেশি শোষণের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে জনগণকে অভূতপূর্ব শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার পথ করে দেওয়ার জন্য ভুটানের জনগণ এবং রাজ সরকারের পক্ষ থেকে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনীত শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা জ্ঞাপন করছি।’

এদিন বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভুটানের সঙ্গে আমরা কানেক্টিভিটি বাড়াতে চাই। এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আমাদের ছেলে। তিনি বাংলাদেশে পড়াশোনা করেছেন। ড. মোমেন বলেন, করোনা উপেক্ষা করে তিনি ঢাকা এসেছেন-এটা আমাদের জন্য গৌরবের। ঢাকা থেকে ভুটানে ফিরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং ও তার সফর সঙ্গীরা ২১ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সন্ধ্যায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং পদস্থ সরকারি, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ হান্ট/ম