সৌন্দর্যচর্চায় বরফ ও বাষ্প

4

সৌন্দর্যচর্চায় বরফ ও বাষ্পের ব্যবহার  নতুন কিছু নয়। পরস্পর বিপরীতধর্মী এ যৌগ ত্বকের নানা সমস্য সমাধানে বেশ কার্যকর। তবে এগুলোর ব্যবহারে চাই দক্ষ হাত। এ জন্য যাঁরা নিয়মিত পারলারে যান, তাঁরা হয়তো খেয়াল করেছেন, সেখানে বিভিন্ন ধরনের বিউটি ট্রিটমেন্টে নানাভাবে আইস এবং স্টিম ব্যবহার করে।

কারণ, ত্বকের ওপর কতটুকু তাপমাত্রা সহনীয় তা জানতে এবং বুঝতে হবে। তা না হলে হতে পারে হিতে বিপরীত। আর সে জন্য জেনে নিতে হবে কিছু কৌশল। তবেই না আপনি বাড়িতেও সৌন্দর্যচর্চায় এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

বাষ্প:

  • ত্বকের রোমকূপ খুলতে কাজ করে বাষ্প। তবে বাষ্প প্রয়োগ করতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। কারণ, ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল হলে পুড়ে বা ফোসকা পড়তে পারে। এ জন্য এক বাটি গরম পানি নিন। বাটির ওপর অন্তত ৭-৮ ইঞ্চি দূরত্বে মুখ রেখে, ওপর থেকে তোয়ালে দিয়ে ঢেকে দিন। একবারে পাঁচ থেকে সাত মিনিটের বেশি সময় বাষ্প নেওয়া উচিত নয়। আর দুই সপ্তাহে একবার এভাবে স্টিম নিতে পারেন। এতে অ্যাকনে, ব্ল্যাকহেডস কম হবে।
  • ত্বকে জমে থাকা টক্সিন বের করতেও সাহায্য করে বাষ্প।
  • মুখে পিম্পল বা ব্রণ হলেও স্টিম নিতে পারেন। এতে ব্রণ আর ব্যাকটেরিয়া উভয়ই দূর হবে, তাড়াতাড়ি সেরেও যাবে।
  • যাঁদের ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডসের সমস্যা একটু বেশি। অথবা অনেক বেশি সময় ধরে বাইরে থাকতে হয়, তাঁরা সপ্তাহে অন্তত একবার স্টিম নিন।
  • নাকের চারপাশ, চিবুক ও কপালের অংশে ব্ল্যাকহেডস গাঢ়ভাবে বসে গেলে স্টিম নেওয়ার পরই স্ক্রাব করতে পারেন বা কোনো ব্ল্যাকহেডস রিমুভ্যাল প্যাক বা স্ট্রিপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে সহজেই শক্তভাবে বসে যাওয়া ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
  • যেকোনো ধরনের ফাঙ্গাল অথবা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দূর করার সহজ সমাধান বাষ্প এবং এটি খুবই কার্যকর।
  • স্টিম নিলে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়ে।

বরফ:

  • ত্বকের ইনফ্ল্যামেশন, রেডনেস, অ্যালার্জি ইত্যাদির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে বরফ।
  • ঘন ঘন মুখ ঘেমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে, মেকআপে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এখানেও সমস্যার সমাধান করবে বরফ। মেকআপ করার কিছুক্ষণ আগে পাঁচ মিনিট পুরো মুখে বরফ চেপে চেপে লাগান। ঘাম কম হবে।
  • ডার্ক সার্কল, পাফি আইস ইত্যাদি কমাতেও বরফ খুব কার্যকর।
  • ফেসিয়াল থ্রেডিংয়ের পর অনেকেরই মুখে র‌্যাশ হয়। মুখে মিনিট পাঁচেক বরফ ঘষে নিলেই র‌্যাশ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
  •  আইব্রো বা আপারলিপ থ্রেড করার আগে ওই অংশে কিছুক্ষণ বরফ চেপে ধরুন। এতে ব্যথার অনুভূতি কম হবে।
  •  বরফ ব্যবহারে অসুবিধা থাকলে বরফ ঠান্ডা পানিও ব্যবহার করতে পারেন। একই ফল পাবেন।
  •  অ্যাকনে থেকে পুঁজ বা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে অ্যাকনের ওপর খানিকক্ষণ বরফ চেপে রাখুন। অ্যাকনের ফোলাভাবও অনেক কমে যাবে।

ত্বকের নানা সমস্যায় বরফ এবং বাষ্প কাজে লাগালেও আর্দ্রতা কিংবা হাইড্রেশনের জন্য সাধারণ পানির কোনো বিকল্প নেই। তা ছাড়া বরফ এবং বাষ্প দুই-ই অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে আসতে পারে। বিশেষত স্টিমের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কারণ, পানির তাপমাত্রা প্রয়োজনাতিরিক্ত থাকলে ত্বক পুড়ে যেতে পারে। সপ্তাহে একবার বা দুবারের বেশি স্টিম নেওয়া বা বরফ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

নিউজ হান্ট/ইস

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরকারের দৃষ্টি মেগাপ্রকল্পেই
পরবর্তী নিবন্ধভারতে আরো আড়াই হাজারের বেশি মৃত্যু