স্ত্রীর শরীরে আগুন দিয়ে পাঁচ দিন আটকে রাখেন স্বামী

15

বগুড়ার ধুনটে স্বামীর দেয়া আগুনে রবিনা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূর শরীর, হাত ও পা ঝলসে গেছে। শরীরে আগুন দিয়ে চিকিৎসা না করিয়ে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে স্বামী মমিন তালুকদার (৩০)।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাঁচদিন পর রবিনা খাতুনকে তার স্বজনরা ধুনট হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় বুধবার (২৪ মার্চ) রবিনা খাতুনের বাবা হোসেন আলী জামাই মমিম তালুকদারকে আসামি করে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার দিঘলকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক হাসেন আলীর মেয়ে রবিনা খাতুনের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে একই গ্রামের মৃত সামাদ তালুকদারের ছেলে মমিম তালুকদারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কিন্তু ৩-৪ বছর ধরে মোমিন তালুকদার কারণে-অকারণে রবিনা খাতুনকে নির্যাতন করে আসছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও মমিন নির্যাতন বন্ধ করেননি। এমতাবস্থায় ১৭ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মমিন তার হাতে থাকা মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত মশালের আগুন রবিনা খাতুনের শরীরে লাগিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের কিছু অংশ এবং বাম হাত ও পা আগুনে ঝলসে যায়। সংবাদ পেয়ে রবিনা খাতুনের স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করতে গেলেও মোমিম তাদেরকে বাধা দিয়ে ঘরে আটকে রাখে। এ অবস্থায় স্বামীর নির্যাতনে বিনা চিকিৎসায় পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিল রবিনা। গত ২২ মার্চ রবিনা খাতুন মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে নিজেই চিকিৎসকের কাজে যেতে চাইলে স্বামী মোমিন তাকে আবারও বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জিম্মিদশা থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে রবিনা খাতুনকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

রবিনা খাতুনের বাবা হোসেন আলী বলেন, মেয়েকে প্রায়ই নির্যাতন করতো মোমিন। একপর্যায়ে সে আমার মেয়েকে হত্যা করতে তার শরীরে আগুন লাগিয়ে ঘরে আটকে রাখে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেয়েকে ধুনট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বগুড়ার ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, ওই গৃহবধূর চিকিৎসার খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ হান্ট/ম