হেফাজতের কর্মসূচি: বায়তুল মোকাররম এলাকায় কড়া নিরাপত্তা

17

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।

আজ শুক্রবার (২ এপ্রিল) জুমার নামাজের আগে বায়তুল মোকাররম এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ সমাবেশ ঘিরে দুপুর থেকেই মসজিদের উত্তর গেটের ভেতরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি পুলিশ সদস্যদের অবস্থান দেখা গেছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান ও সাজোয়া যান।

প্রেসক্লাব, কাকরাইল মোড়, গুলিস্তান জিরো পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকাতেও পুলিশ সদস্যদের অবস্থান দেখা যায়।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। যে কোনো ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনে প্রতিবাদে গত শুক্রবার বায়তুল মোকাররমে হেফাজত নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বায়তুল মোকাররম এলাকা।

ওইদিন জুমার নামাজের পরপরই বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। মোদিবিরোধী মিছিলে উত্তাল বায়তুল মোকাররম এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পরে সেই সংঘর্ষের রেশ ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে। হাটহাজারী, ঢাকা ও ব্র্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজত নেতাকর্মী ও মাদ্রাসাশিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভ-ভাঙচুর ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার শুরু হওয়া সেই সংঘর্ষ এর পরের তিন দিনও অব্যাহত থাকে। নজিরবিহীন এই সংঘাতে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। যদিও হেফাজতের দাবি, নিহতের সংখ্যা ১৮ জন।

নিউজ হান্ট/এনএইচ