১ কিলোমিটারে ৮ অবৈধ ইটভাটা!

10

নওগাঁ থেকে একেএম কামাল উদ্দিন টগর: মালঞ্চ, শালবন, গন্ধবপুর, পাঁচঘরিয়া পাশাপাশি চারটি গ্রাম। এই চারটি গ্রামে মাত্র ১ কিলোমিটারের দূরত্বের ব্যবধানে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জনবসতির মধ্যেই গড়ে উঠেছে ৮টি অবৈধ ইটভাটা। এখান থেকে আধাঁ কিলোমিটার দক্ষীনে জগৎনগর ও সাগরপুর মৌজাই রয়েছে আরও দুটি ইটভাটা। মাত্র ১ কিলোমিটারের ব্যবধানে এতগুলো ইটভাটার কারণে এলাকাবাসীর জীবন হয়ে উঠেছে দূর্বিষহ।

অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ভাটা মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় নিয়মের তোয়াক্কা না করেই মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দিয়ে ফসলি জমি কেটে মাটি নেওয়া হচ্ছে ইটভাটাই। এতে যেমন ফসলি জমিগুলো হয়ে পড়ছে অনাবাদী, তেমনই দিনরাত রাস্তা দিয়ে ট্রাক চলাচল করায় স্থানীয়দের চলাফেরা হয়ে উঠেছে ঝুকিপূর্ণ।

রাস্তাগুলো দিনের বেলাতেই ধুলায় অন্ধকার হয়ে থাকে। যার কারণে হাঁপানি, অ্যাজমাসহ দেখা দিচ্ছে নানা রোগ। ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে এ এলাকার ফলজ গাছগুলো এখন অনেকটা ফলশূন্য। কয়েকটি ইটভাটায় কয়লার পরির্বতে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এমন দৃশ্য নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর ইউনিয়নের।

শুধু এই ইউনিয়ন নয় এ উপজেলা জুড়ে রয়েছে এরকম আরও ২৬টি ইটভাটা যার সবগুলোই অনুমোদনহীন। যাদের নেই কোন পরিবেশ লাইসেন্স বা অন্য কোন কাগজপত্র। অথচ প্রশাসন এখানে একেবারেই নিরব। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাাসনকে ম্যানেজ করে চলছে এসব অবৈধ ইটভাটা।

স্থানীয় বাসিন্দা নিজামুল হোসেন বলেন, এখানে ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকার পরও এক মিলোমিটারের ব্যবধানে জনবসতির মধ্যেই ৮টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। প্রতিযোগিতা মূলকভাবে একজন মালিকই একাধিক ইটভাটা নির্মাণ করেছে। ভাটাগুলোর কারণে প্রতি মূহুর্ত্বে যেভাবে ট্রাক চলাচল করে তাতে ধূলোয় দিনের বেলায়ও রাস্তাগুলো অন্ধকার হয়ে থাকে। ধুলোর কারণে রোগ-বালায় লেগেই আছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। এখানে সামান্য দূরুত্বে এত ইটভাটার প্রয়োজন নেই । বৈধভাবে একটি ইটভাটা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করছি।

পাঁচঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সবুজ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন,কৃষকদের মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে ফসলি জমি হতে ইটভাটাগুলোতে যেভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে কিছু দিনের মধ্যেই এ এলাকার আর কোন ফসলি জমি আবাদের উপযুক্ত থাকবে না। ইটভাটার মালিকরা অনেক প্রভাবশালী। আমরা যুবকরা কোন প্রতিবাদ করলে উল্টো আমাদেরই হুমকি দেওয়া হয়। আর বহুবার প্রশাসনকে অভিযোগ করেছি। কোন কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলপনা ইয়াসমি বলেন, খোজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধহজের বিষয়ে আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ
পরবর্তী নিবন্ধনাটোরে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু