২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৫, রাজশাহীতে লকডাউন বাস্তবায়নে প্রস্তুত প্রশাসন

2

মীর তোফায়েল হোসেন (রাজশাহী থেকে): রাজশাহীতে ক্রমেই ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে করোনা। একদিকে বাড়ছে সংক্রমণ অন্যদিকে দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের তালিকা। গেল ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৫ জন। হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড গুলোতেও রোগীর জায়গা দেওয়া যাচ্ছেনা।

হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার অধিক রোগী ভর্তি আছেন। এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে ১৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে এই কঠোর লকডাউন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসন শুক্রবার সকাল থেকে চলমান বিধিনিষেধ জোরদার করার পাশাপাশি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। মাইকিং করে সবাইকে জানানোসহ বিধিনিষেধ না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সতর্ক করা হচ্ছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে ১৭ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকার সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শপিং মল, বিপণি-বিতান, দোকান, রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে। তবে ওষুধ, কাঁচাবাজার, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন ও সৎকারের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান এই লকডাউনের আওতাবহির্ভূত থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিধিনিষেধ চলাকালে বাস, ট্রেনসহ কোনো ধরনের যানবাহন রাজশাহী মহানগরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং রাজশাহী মহানগর থেকে বের হতে পারবে না। তবে আমসহ কৃষিপণ্য, খাদ্যসামগ্রী পরিবহন, রোগী পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা-দানকারী পরিবহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

জনসমাবেশ হয় এমন যেকোনো ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক পার্টি, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের জমায়েত বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া সব ধরনের পর্যটনস্থল, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। এসব বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, রাত থেকেই লকডাউনের বিষয়ে বিধিনিষেধগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পুলিশ মাইকিং শুরু করেছে। নগরে এই সাত দিন কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, সে বিষয়ে মানুষকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে এই প্রচারণা আরও ব্যাপকভাবে চলছে।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী মহানগর পুলিশের ১২ থানার পাশাপাশি লকডাউন বাস্তবায়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। মহানগর পুলিশের সঙ্গে রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সও কাজ করবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের কাছে আনসার সদস্য চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। লকডাউন চলাকালে বিধিনিষেধ অনুযায়ী মহানগরের সব প্রবেশপথে পুলিশ শক্তভাবে অবস্থান নেবে। কোনোভাবেই নগরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং নগর থেকেও বাইরে বের হওয়া যাবে না।

এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক।

তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন দুটি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করতেন। শুক্রবার বিকেল থেকে চারটি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার জেলা সার্কিট হাউসে রাত ৯টা থেকে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি সভা শেষে রাজশাহীতে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ দেওয়ার ঘোষণা দেন বিভাগীয় কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, রাজশাহীতে ৩ জুন প্রথমে সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তারপর ৬ জুন আরও দুই ঘণ্টা এগিয়ে বিকেল ৫টা থেকে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এই কদিন তারা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন রাজশাহী নগরে করোনা সংক্রমণ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। তাই তারা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে ১৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত সর্বাত্মক লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ওই সভায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল বাতেন, মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধআনসার আল ইসলামের নেতা মুফতি তানভীর গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধভারতে প্রবেশের চেষ্টা: বিজিবির হাতে নারী-শিশুসহ আটক ১০