৪২ দিনের সই একদিনেই করলেন শিক্ষা অফিসার!

10

মাগুরা থেকে মোঃ জুয়েল রানা: একটানা ৪২ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তারপর একদিনেই সবদিনের স্বাক্ষর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, তৌফিকুল ইসলাম গত বছরের ২৯ নভেম্বর মাগুরার শ্রীপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু যোগদানের পর থেকেই প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৪-৫ দিন নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেছেন। সর্বশেষ ১১ এপ্রিল থেকে এক নাগাড়ে ২২ মে পর্যন্ত কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এই সময়ে উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নানা সভাতেও তিনি অনুপস্থিত থাকলেও তার বিষয়ে সকলেই রয়েছেন নিশ্চুপ।

শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অথচ তার অনুপস্থিতিতে অন্য কাউকে দায়িত্ব না দেয়ায় প্রায় সকল প্রকার কাজই থেমে গেছে।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, শ্রীপুরে যোগদান করার পর গত ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ৩ মাসই তিনি অনুপস্থিত। তার এই অনুপস্থিতির কারণে নানা সমস্যাতে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সভাতেও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফিরে আসেন। কিন্তু তারপরও অফিসে তাকে পাওয়া যায় না।

দিনের পর দিন তার অনুপস্থিতির বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরাও সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ২৩ মে তারিখে শ্রীপুরে ফিরে ওইদিনেই এক নাগাড়ে অনুপস্থিত সকল দিনের হাজিরা ঘরে স্বাক্ষর করেছেন। তার মধ্যে ১৩ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ঈদ উল ফিতরের ছুটি থাকলেও সেখানেও স্বাক্ষর করেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

কোনো প্রকার ছুটি ছাড়া এক নাগাড়ে ৪২ দিন অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তৌফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে কিছুই বলতে রাজি হননি। তবে তার বিষয়ে জেলা কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন বলে তিনি জানান।

বিষয়টি নিয়ে মাগুরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগির কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ আগে শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মেইলের মাধ্যমে ছুটির আবেদন করে চলে গেছেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে বাড়িতে আটকে পড়ায় ফিরতে পারেননি বলে শুনেছি। তবে তিনি ফিরে এসে হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত ঘরে স্বাক্ষর করেছেন কিনা জানা নেই। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধএক সপ্তাহ না যেতেই সিলেটে আবার দুই দফা ভূমিকম্প
পরবর্তী নিবন্ধনেপালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী পাঠালো বাংলাদেশ