বুধবার, ডিসেম্বর ১, ২০২১

অ্যালার্জি বেশি থাকলে মৃত্যু ডেকে আনতে পারে চিংড়ি

আরও পড়ুন

অনেকের এলার্জির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এলার্জি বাড়ায় এমন খাবার জিভে দেওয়া মাত্রই শরীরের ‘প্রতিরোধ ক্ষমতা’ কিছু কেমিক্যাল নিঃসরণ করে। যা থেকে আকস্মিক রক্তচাপের পতন হয়। বন্ধ হয়ে যায় শ্বাসনালীর রাস্তা। জলজ্যান্ত দেহটা কয়েক মুহূর্তে নিথর। যেমনটা হয়েছে দিঘায় ঘুরতে যাওয়া বেহালার যুবকের।

সম্প্রতি ভারতের দিঘায় কাঁকড়া ভাজা খেয়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। জানা গিয়েছে, চিংড়ি মাছে অ্যালার্জি ছিল তার। নিজে জানতেন সেটা। কিন্তু টের পাননি কাঁকড়াও থাকতে পারে সেই তালিকায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণত চিংড়ি মাছে যার অ্যালার্জি থাকে তাদের কাঁকড়া কেন, কোনো সামুদ্রিক মাছই খাওয়া উচিৎ নয়। আদতে ওই খাবারগুলো তার কাছে অ্যালার্জেন। মুখে দেওয়া মাত্রই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মক প্রতিঘাত দেবে। অতি সক্রিয় হয়ে ‘পালমোনারি ইডিমা’ তৈরি করবে। যার ফলে শ্বাসনালীর উপরের অংশ বন্ধ হয়ে যাবে। নাকের দুটো ফুটো ছিপি আটার মতো আটকে যাবে। খবর সংবাদ প্রতিদিনের

ভারতের ন্যাশনাল অ্যালার্জি অ্যাসমা ব্রঙ্কাইটিস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ডা. অলোক গোপাল ঘোষাল জানিয়েছেন, চিংড়ি, কাঁকড়া খেয়ে চুলকানি হচ্ছে, ঠোঁট ফুলছে এটা ছোটখাটো অ্যালার্জি। অ্যানাফাইলেকটিক শক নয়। তবে আজ যার স্রেফ ঠোট ফুলছে কাল তার অ্যানাফাইলেকটিক শক হতেই পারে। তাই যে খাবারে অ্যালার্জি তার থেকে দশ হাত দূরে থাকুন।

কোন কোন খাবারে অ্যালার্জি? তা জানতে টেস্ট করা যায়। এ ধরনের টেস্টকে বলা হয় এসপিটি বা স্কিন প্রিক টেস্ট। রয়েছে ফুড চ্যালেঞ্জিং টেস্ট। তবে সবার জন্য টেস্ট করানোর কোনো মানে নেই। সেক্ষেত্রে উপায় একটাই। আগে থেকে সাবধান হওয়া। তিন রকমের খাবার রয়েছে। ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন। সাধারণত প্রোটিন জাতীয় খাবারেই অ্যালার্জি বেশি দেখা যায়। তার মধ্যে প্রাণীজ প্রোটিন থেকেই সাবধান থাকতে বলছেন চিকিৎসকরা। সয়াবিন খেয়ে অ্যালার্জি হয়েছে এমনটা বড় একটা দেখা যায় না।

চিংড়ি, কাঁকড়া খেলে শরীরে প্রদাহ তৈরি হয়। এই প্রদাহ বন্ধ করতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছু ‘ইনফ্লামেটরি মেডিয়েটর’ নিঃসরণ করতে থাকে। প্রদাহ কমানোর এমনই এক বস্তু হিস্টামিন। এই হিস্টামিন শ্বাসনালীর পেশির সংকোচন বাড়িয়ে দেয়। ব্লাড ভেসেল গুলি ফুলে ওঠে। চিকিৎসা পরিভাষায় এর নাম ভ্যাসোডাইলেশন। শিরা থেকে রক্তরস বাইরে চলে যায়। যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত আর হার্টে পৌঁছয় না। মস্তিষ্কেও রক্ত পৌছনোর পরিমাণ কমতে কমতে থাকে। ১৫ মিনিটের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রোগী।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ