সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২১

আত্রাইয়ে খাল পূনঃখননে কৃষকের মুখে হাসি

আরও পড়ুন

নওগাঁ থেকে কামাল উদ্দিন টগর: নওগাঁর আত্রাইয়ে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডির) টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লালপাড়া-পৈঁসাওতা উপ প্রকল্পের খাল পূনঃখনন কারা হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। খালটির দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটার।

জানা গেছে, সার্বিক তত্বাবধানে,টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খাল পূনঃখনন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে লালপাড়া-পৈঁসাওতা(এসপিনং ২৫৩২৭) পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি.। খাল খনন শুরু হয় চলতি বছরের মার্চ মাসে আর শেষ হয় ৩১ শে এপ্রিল।

খালটি উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের লালপাড়া স্লুইসগেট থেকে শুরু হয়ে পৈঁসাওতা ব্রিজের পূর্ব প্রান্তে গিয়ে শেষ হয়েছে। খালটি পূনঃখনন হওয়ায় পৈঁসাওতা,বাহাদুরপুর,দমদত্ত বাড়িয়া,হিঙ্গলকান্দি, উলুবাড়িয়া,লালপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষ বিভিন্ন উপায়ে সুবিধা ভোগ করছেন। এতে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মওসুমে খাল তীরবর্তী আট শত হেক্টর জমিতে সেচ কাজ সহজসাধ্য হয়েছে।

সুবিধাভোগী হিঙ্গলকান্দি গ্রামের কৃষক বাবলু বলেন, লালপাড়া-পৈঁসাওতা উপ-প্রকল্প খালটি পূনঃখনন করায় এলাকার কৃষকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। আগে বন্যার পানি উপচে ফসল ডুবে যেত এখন আর এ সমস্যা নেই। খালের পানি ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষাবাদ শুরু করেছি।

খালের তীরবর্তী দমদত্তবাড়িয়া গ্রামের কৃষাণী জাহানারা বলেন, শুষ্ক মওসুমে খালের পানি সংরক্ষণ করায় এ পানিতে হাঁস পালন করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

লালপাড়া-পৈঁসাওতা(এসপিনং২৫৩২৭) পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি: সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন, খালের পানি ব্যবহার করে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ এবং বীজতলা বপন সহজ হবে। তাছাড়া এ পানি ব্যবহার করে রবি মওসুমে গম, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উৎপাদন হবে।

খালকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের কৃষকরা সংগঠিত হয়েছে। তারা এখন সমবায় ভিত্তিক উন্নয়ন মূলক অনেক কাজ করছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তোফায়েল আহম্মেদ জানান, সমিতির সদস্যরা খাল খননের জন্য একটি রেজুলেশন তৈরি করে উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে আমার দপ্তরে জমা দেন। তারই প্রেক্ষিতেই খালটি পূনঃখনন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সমিতির সদস্যদের নিয়ে গঠিত এগারোটি এলসিএস গ্রুপের মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করা হয়। খাল খননের ফলে ওই এলাকার কৃষির প্রসার ঘটানো ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ সহজ হবে। তা ছাড়া মৎস্য চাষ ও হাঁস পালন সহ অন্যান্য সুবিধা পাবে। এত করে সমিতির সদস্যের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে অপর দিকে খালের উভয় পাড়কে সুরক্ষিত এবং মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করার একটি রাস্তা হয়েছে।

এছাড়া খালের সৌন্দর্য বেড়েছে। খালের পানিতে মিলছে নানা প্রজাতির মাছ আর জলজ-উদ্ভিদ। বারো মাসে সেচ সুবিধা পাওয়ায় খালের তীরবর্তী কৃষি জমি গুলো চাষাবাদের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ