সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২১

আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’

আরও পড়ুন

চলতি নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে একাধিক নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এ নিম্নচাপের যেকোনো একটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এবার সেই আশঙ্কাই সত্য হতে যাচ্ছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি দেশে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’।

আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, আজ রবিবার (১৪ নভেম্বর) বিকাল পর্যন্ত এমন আবহাওয়া বিরাজ থাকতে পারে। তবে লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হলে পরিস্থিতি পালটে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কাও রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে, আজ বিকালের মধ্যে তা কমে যাবে।

তিনি আরও জানান, এখনও সাগরে লঘুচাপই আছে। আর এটি নিম্নচাপে রূপ নিলেও তা আগামীকাল সোমবার নাগাদ হতে পারে, তবে সেটি ভারতের ওপর দিয়েই যাওয়ার শঙ্কা বেশি।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, ভারতের উত্তর তামিলনাড়ু ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থারত লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপটি হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশেপাশের এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে আগত লঘুচাপটির বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দক্ষিণ আন্দামান সাগর এবং এর আশেপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানান, এই লঘুচাপগুলোর একটিও যদি শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয় তাহলে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা আছে জাওয়াদ। এটি সৌদি আরবের দেওয়া নাম।

বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে নভেম্বর মাসের ঝড়গুলোই বেশি ভয়ংকর ছিল।

বাংলাদেশের সব থেকে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়টি ১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বরের গোর্কী। যে ঝড়ে ছয় লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর আরেকটি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের নাম সিডর।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ