রবিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২১

ইউরোপজুড়ে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ

আরও পড়ুন

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন করে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। ফলে অনেক দেশই আবার বিধিনিষেধে ফিরতে শুরু করেছে। আর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে অস্থির হয়ে উঠেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। সম্প্রতি ইউরোপে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তিন সপ্তাহের আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয় নেদারল্যান্ডে। তাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে দেশটির জনগণ।

বিক্ষুব্ধ মানুষ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে, হেগে বাইসাইকেলে আগুন দিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। তারই একরাত পরে রটারডামে বিক্ষোভ আরও সহিংস হয়ে উঠলে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। পুলিশের গুলিতে আহত তিনজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। এমন অবস্থায় হেগ শহর জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেড়ে অস্ট্রিয়াতে সোমবার ২০ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হলে দেশটির রাজধানী ভিয়েনাতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা বাধ্যতামূলক করারও পরিকল্পনা তাদের। জাতীয় পতাকা এবং ‘স্বাধীনতা’ লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ‘প্রতিরোধ!’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায়, এসময় তারা পুলিশকে গালাগালিও করে।

একই অবস্থা দেখা দেয় ক্রোয়েশিয়া ও ইটালিতেও। ক্রোয়েশিয়াতে সরকারি খাতের কর্মীদের জন্য কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা বাধ্যতামূলক করে দেয়ায় রাজধানী জাগরিবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে হাজার হাজার মানুষ। কর্মক্ষেত্রে, বিভিন্ন স্থানে ও গণপরিবহনে প্রবেশে গ্রিন পাস লাগবে জানার পর থেকে বিক্ষোভ করছে ইটালির জনগণও।

ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের গুয়াদোলৌপেতেও কভিড-১৯ পদক্ষেপবিরোধী বিক্ষোভ সামলাতে বাড়তি পুলিশ নিয়োগ দিয়েছে ফ্রান্স।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই অঞ্চলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হচ্ছে। সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক ড. হ্যান্স ক্লুগ বলেন, যদি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তাহলে আগামী বসন্তের মধ্যে ইউরোপে ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে।

বেশ কিছু দেশে এরই মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণের হারও দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই মহাদেশের অনেক সরকার নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসছে। তাতেই পরিস্থিতি কিছুটা উত্তাল হয়ে উঠছে।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ