রবিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২১

ইভ্যালির ৩৬ হিসাবে লেনদেন প্রায় চার হাজার কোটি টাকা

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত বিতর্কিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালি লিমিটেডের ৩৬টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকার লেনদেনের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ইভ্যালির প্রাক্তন চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল এবং তাদের কর্মচারী বা প্রতিষ্ঠানের নামে ১৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ৬৭টি অ্যাকাউন্টের প্রাসঙ্গিক নথি বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আদালতে রিটকারিদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব, মোহাম্মদ শিশির মনির ও আনোয়ারুল ইসলাম বাধন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

ফির‌্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান, এমডি এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নামে ১৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৬৭টি হিসাবের আনুষাঙ্গিক দলিলাদি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। লেনদেনের বিবরণী থেকে দেখা যায় যে, ইভ্যালি ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নামে প্রাপ্ত ৩৬টি হিসাবে (সঞ্চয়ী, চলতি) মোট ৩ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে জমা প্রায় ১ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা আর উত্তোলন হয়েছে ১ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

এর মধ্যে আরও ১০টি হিসাব শনাক্ত হওয়ায় চলতি বছরের ১০ আগস্ট সিআইডির কাছে ৭৭ টি (৬৭ ও ১০) হিসাবের তথ্য পাঠানো হয়েছে। কার কার নামে কখন এসব টাকা উত্তোলন করা হয়েছে তাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে রিটকারীদের আইনজীবী জানান, আদালতের আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে লিখিত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট থেকে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যেখানে শুধু ইভ্যালির অর্থের হিসাব প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তারা দেখেছেন ইভ্যালির মাধ্যমে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ টাকাই অন্যান্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেছে। বর্তমানে মাত্র ২.১৩ কোটি টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে রয়েছে। ইভ্যালি ছাড়া অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের তথ্য তারা দাখিল করেননি।

এর আগে সেপ্টেম্বরে পৃথক পৃথক তিনটি রিট দায়ের করেন মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। ওই তিনটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট কী পদক্ষেপ নিয়েছে, ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ে এনবিআরের পলিসি কী এবং ই-কমার্স খাতের স্বার্থে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের করা ১৬ সদস্যের কারিগরি কমিটির কার্যপরিধি কী তা জানতে চেয়েছিলেন।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ