সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

এখনো খোঁজ মেলেনি তাদের, দুশ্চিন্তায় পরিবার

আরও পড়ুন

রাজধানীর মিরপুর পল্লবী এলাকা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সন্ধান মেলেনি কলেজপড়ুয়া সেই তিন বান্ধবীর। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের খোঁজ না মেলায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার।

পুলিশ বলছে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ট্র্যাক করে সর্বশেষ লোকেশন দেখা যায় পল্লবীর অ্যাভিনিউ-৫। এরপর থেকে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাদের উদ্ধারে থানা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি), এলআইসি টিম, সাইবার ক্রাইম ও সোয়াত টিম।

ওই তিন কলেজছাত্রী হলেন-কাজী দিলখুশ জান্নাত নিসা, কানিজ ফাতেমা ও স্নেহা আক্তার। তারা সবাই এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

তিন ছাত্রীর পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তারা নগদ টাকা, স্বর্ণের গয়না, সার্টিফিকেট ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে এক ছাত্রী ছয় লাখ টাকা, আরেকজন আড়াই ভরি স্বর্ণ নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়েছেন। অন্যজন নগদ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন।

এছাড়া তারা নিজেদের এসএসসির সনদও নিয়ে গেছেন। তাদের প্রত্যেকের কাছে দামি মোবাইলও রয়েছে।

এ ঘটনায় পল্লবী থানা পুলিশ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। তারা হলেন-তরিকুল, তনয় (তারা দুজন সহোদর) ও রকিবুল।

এ ঘটনায় শুক্রবার (১ অক্টোবর) নিখোঁজ কাজী দিলখুশ জান্নাত নিসার মা মাহমুদা আক্তার পল্লবী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে মাহমুদা আক্তার জানান, দিলখুশ জান্নাত নিসা ও তার দুই বান্ধবী কানিজ ফাতেমা এবং স্নেহাকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ঘরছাড়া করেছে একটি নারী পাচারকারী চক্র। পরিবারের কাউকে কিছু না বলে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সবাই নিজ নিজ বাসা থেকে একসঙ্গে বের হয়। বের হওয়ার সময় প্রত্যেকে বাসা থেকে নগদ টাকা, গহনা, সার্টিফিকেট ও মোবাইল নিয়ে গেছে।

দিলখুশ জান্নাত নিসার বড় বোন অ্যাডভোকেট কাজী রওশন দিল আফরোজ বলেন, আমার ছোট বোন ও তার বান্ধবীদের বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখানো হয়েছে। এ জন্য তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। আজ তিনদিন হলো অনেক জায়গায় খোঁজ-খবর নিয়েছি কিন্তু কোথাও তাদের সন্ধান পাইনি।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে সবাই কলেজের ড্রেস পরে ব্যাগ নিয়ে বের হয়। আমাদের মহল্লার প্রতিবেশী তরিকুল, রকিবুল ও জিনিয়া এ ঘটনায় জড়িত। এর মধ্যে তরিকুল আমার বোনের সঙ্গে প্রায়ই কথা বলতেন। তরিকুল তাকে (নিসা) বলতেন, সে অনেক বড় হ্যাকার ও বড় কোম্পানির মালিক। হরহামেশা আমেরিকায় লোকজন পাঠান।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম বলেন, নিখোঁজদের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে সর্বশেষ লোকেশন দেখা যায়, পল্লবীর অ্যাভিনিউ-৫ এ। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আজ শনিবার পর্যন্ত তাদের কোনও আপডেট নেই। তবে তাদেরকে উদ্ধারে আমাদের থানা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি), এলআইসি টিম, সাইবার ক্রাইম ও সোয়াত টিম।

জানতে চাইলে পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আরিফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আপাতত আপডেট নেই। তবে তাদের উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশের একাধিক ইউনিট।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ