সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২১

এমন ম্যাচও হারলো বাংলাদেশ

আরও পড়ুন

বোলিংয়ে শুরুটা আর শেষটা আকাশ পাতাল তফাৎ। ব্যাটিংয়ে আরও হতশ্রী অবস্থা। তাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যাত্রাতেই হার দেখলো বাংলাদেশ। রোববার ওমানের মাসকটে পুঁচকে স্কটল্যান্ড ১৪১ রানের টার্গেট দিয়ে ম্যাচটা জিতে নিলো ৬ রানে।

প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতাগুলো মাথাব্যথার কারণ হবে জেনেও সেটিকে পাত্তা দিচ্ছিলেন না কেউ। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আমলে নেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও।

কিন্তু সকালের সূর্যটা দেখে নাকি বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে, বাংলাদেশও তেমন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে আভাস পেয়েছিল সামনে বিপদ আসছে। সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিমদের জন্য সেই বিপদই বয়ে আনল স্কটল্যান্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর দিনেই বাংলাদেশকে ভড়কে দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিল তারা।

সর্বশেষ ২০১২ সালেও একমাত্র লড়াইয়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে দিয়েছিল স্কটল্যান্ড। ভাগ্য বদল হলো না এদিনও! ১৪১ রানের লক্ষ্য দিয়ে বাংলাদেশকে তারা চাপে ফেলে দেয় শুরুতেই। মিডউইকেটে ইনিংসের দ্বিতীয় বলে চার মেরে পরের ওভারে শেষ রক্ষা হয়নি ওপেনার সৌম্যর। ডেভির বলে ঠিক একই জায়গায় মেরে খেলতে গেলেও ততক্ষণে সেখানে দাঁড়িয়ে যান এক ফিল্ডার! ফাঁদে পড়ে সৌম্য বিদায় নেন ৫ রান করে। শুরুর ধাক্কা সামলানোর বদলে উইকেট বিলিয়ে দেন ওপেনার লিটন দাসও। উইকেট ছেড়ে এসে মিড অফে ক্যাচ তুলে দেন ব্র্যাড হুইলের বলে।

দুই ওপেনারের বিদায়ের চাপটা গিয়ে পড়ে সাকিব-মুশফিকের ওপরে। পাওয়ার প্লেতে কাঙ্ক্ষিতভাবে রানের জোগান দিতে পারেননি তারা। পাশাপশি স্কটিশ বোলিংয়ে রান রেটের চাপও বাড়তে থাকে প্রতিনিয়ত। কিন্তু মুশফিক হাত খোলার চেষ্টায় ছিলেন। শ্লথ গতিতে সাকিব তাকে সঙ্গ দিলেও মেরে খেলতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন ১১.১ ওভারে। লেগ স্পিনার গ্রেভসের বলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ম্যাকলিওডের ক্যাচে পরিণত হন। তার বিদায়ের পর মুশফিকও থিতু হননি। লেগ স্পিনার গ্রেভসের ঘূর্ণিতেই তিনি ফেরেন ৩৮ রানে! স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হন মুশফিক। মূলত গ্রিভসের এই দুই উইকেট শিকারেই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি পাল্টে যায় দ্রুত।

ভীষণ বিপদে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে তখন আশা দেখাচ্ছিলেন আফিফ ও মাহমুদউল্লাহ। আফিফ চাপ মুক্ত করতে সফলও হন। কিন্তু চাপের কাছেই মাথা নত করেন তরুণ এই ব্যাটার। ওয়াটের বলে ক্যাচে পরিণত হন। আফিফ ১২ বলে ১৮ রানে ফিরলে দিশা হারায় মাহমুদউল্লাহর দল। একে একে ফেরেন নুরুল হাসান, মাহমুদউল্লাহ। শট খেলার তাড়ায় টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ২২ বলে ২৩ রানের বেশি করতে পারেননি। অভিজ্ঞদের বিদায়ে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে করতে পারে ১৩৪ রান।

২৪ রানে তিনটি নেন ব্র্যাড হুইল। ১৯ রানে দুটি নেন ক্রিস গ্রেভস। মূলত ব্যাট-বলে তার অবদানেই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি পাল্টেছে দ্রুত। তাই ম্যাচসেরাও হন তিনি। একটি করে নেন জশ ডেভি ও মার্ক ওয়াট।

অথচ মেহেদী-সাকিবের ঘূর্ণিতে এক পর্যায়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল স্কটল্যান্ড। টস জেতার পর ৫৩ রানে স্কটল্যান্ডের ৬ উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টি-টোয়েন্টি এমনই এক ফরম্যাট একজন দাঁড়িয়ে গেলে মুহূর্তেই পাল্টে যায় ম্যাচ। যেটা করে দেখান লেগ স্পিনার হিসেবে সুযোগ পাওয়া ক্রিস গ্রেভস! তার শেষের ঝড়-ই সমৃদ্ধ স্কোরবোর্ড পাইয়ে দিয়েছে স্কটিশদের। ‘বি’ গ্রুপে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশকে তারা ছুঁড়ে দেয় ১৪১ রান।

৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ক্রিস গ্রেভস ও মার্ক ওয়াট মিলেই জানান দেন এখনও রসদ শেষ হয়ে যায়নি স্কটল্যান্ডের। ৩৪ বলে ৫১ রানই উঠে এই জুটিতে! তাসকিনের বলে এই জুটি ভাঙে মার্ক ওয়াটের বিদায়ে। ওয়াট ১৭ বলে ২২ রানে ফেরেন। ১৯.২ ওভারে গ্রেভস বিদায় নেন স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেই। উড়িয়ে মারতে গিয়ে ২৮ বলে ৪৫ রান করা এই ব্যাটার শিকার হন মোস্তাফিজের। যার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছয়। পরের বলে কাটার মাস্টার জশ ডেভিকে ফেরালেও শারিফের ছক্কায় স্কোরটা হয়ে যায় চ্যালেঞ্জিং। ৯ উইকেটে স্কটল্যান্ড করে ১৪০ রান। যার খেসারত দিতে হয়েছে ম্যাচ হেরে!

অফস্পিনার মেহেদী ১৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ১৭ রানে দুটি নেন সাকিব আল হাসান। মোস্তাফিজ দুটি নিলেও রান দিয়েছেন ৩২টি। একটি করে নেন সাইফউদ্দিন ও তাসকিন আহমেদ।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ