বুধবার, ডিসেম্বর ১, ২০২১

কিউই পরীক্ষায় পাস পাকিস্তান

আরও পড়ুন

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচটা ছিল পাকিস্তানের জবাব দেওয়ার। গত মাসে এই নিউজল্যান্ডের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পাকিস্তান সফর বাতিল করেছিল। তখন থেকেই এই দিনটার অপেক্ষায় ছিল সাবেক পাকিস্তানি থেকে শুরু করে অধিনায়ক বাবর আজম পর্যন্ত। কিউইদের সফর বাতিলের পরেই পাকিস্তান এই ম্যাচে হারানোর হুমকি দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হারিয়েই দিল। উইলিয়ামসনের দলের বিপক্ষে বাবরদের জয় ৫ উইকেটে।

ম্যাচের আগেই সাবেক পাকিস্তানি গতি তারকা শারজার গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, খুব বেশি চেঁচামেচি কিংবা উল্লাস করবেন না দয়া করে। কারণ নিরাপত্তা অজুহাতে ম্যাচ বাতিলের আবদার করতে না পারলে তখন নিউজিল্যান্ড ‘শব্দদূষণ’কে বাহানা বানাতে পারে! ম্যাচ চলাকালীনও থেমে ছিলেন না শোয়েব। ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট দিচ্ছিলেন কিউইদের কটাক্ষ করে। শেষ শোয়েব সহ পুরো পাকিস্তানকে হতাশ করেনি মালিক-হাফিজরা।

তবে একটা সময় ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের দিকে হেলে পড়েছিল। সেখান থেকে টিম সাউদির ১৭ তম ওভারে দুই ছয় হাঁকিয়ে ম্যাচের ছবি বদলে দিলেন আসিফ আলী। শেষ দিকে রান রেট যখন বাড়ছিল তখনই পাকিস্তানকে পথ দেখান আসিফ। শেষ ১৮ বলে পাকিস্তানের জয়ের জন্য ১৮ বলে ২৪ রানে সমীকরণ নামিয়ে আনেন এই পাকিস্তানি ব্যাটার।

১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে ছিল পাকিস্তান। ২৮ রানেই এদিন ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। বাবর আজম ফেরার পর তিনে আসা ফখর জামান জামান ১১ রানে আউট হওয়ার আগে ১৭ বল খেলে যেন আরও ক্ষতি করে দিয়ে গেলেন দলের। প্রথম বলে ছক্কা হাঁকানো হাফিজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পাকিস্তানের বড় ভরসা হয়ে থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ান দলীয় ৬৯ রানে ফিরে গেলে চাপে পড়ে পাকিস্তান। ৮৭ রানে ইমাদ ওয়াসিম সুইচ হিট করতে গিয়ে বোল্টের বলে এলবিডিব্লু হলে ম্যাচের ভাগ্য হেলে পড়ে নিউজিল্যান্ডের দিকে।

এর আগে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। ভারতের বিপক্ষে আগুন ঝরানো শাহীন আফ্রিদি প্রথম ওভারে দেন মেডেন। তবে শুরুর ব্রেক থ্রু অবশ্য এনে দিয়েছেন হারিস রউফ। ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই বোল্ড করেন মার্টিন গাপটিলকে (১৭)।

আরেক ওপেনার ড্যারিল মিচেলও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ইমাদ ওয়াসিমকে ছক্কা মেরে পরের বলেই ফখর জামানের হাতে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিচেল (২৭)। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসেই জিমি নিশামকে ওই একই জায়গায় ফখরের হাতে ক্যাচ বানান মোহাম্মদ হাফিজ। ৫৬ রানের মধ্যে তিন টপ অর্ডারকে হারিয়ে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে কিউইরা।

শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ফিরে যান কনওয়ে (২৭) আর ফিলিপস (১৩)। দুইজনই রউফকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন। ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া শাহীনও কিউইদের অল্পের মধ্যে বেঁধে রাখতে বড় অবদান রেখেছেন। রউফ ২২ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। শেষ পর্যন্ত উইলিয়ামসনের দলের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৩৪।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ