বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২০, ২০২২

‘গত কয়েক মাসে মুরাদের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ করেছি’

আরও পড়ুন

কর্মবিরতির হুমকি রেল কর্মীদের

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কমিটির ৫ পরামর্শ

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মুরাদ হাসানের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করছিলেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মুরাদ হাসান তাকে সব সময় সহযোগিতা করে এসেছেন বলেও জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি মুরাদ হাসানের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করেন।

হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, সরকার ‘বিব্রত’ হওয়ায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

অডিও কেলেঙ্কারির জেরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুরাদ হাসান মঙ্গলবার দুপুরে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের এই পর্যবেক্ষণের কথা জানান হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মুরাদ হাসান তাকে সব সময় সহযোগিতা করে এসেছেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করেছেন। তার বক্তব্য সরকার ও দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিব্রত করেছে। সেই কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করার জন্য বলেছেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পুরো বিষয়টা আসলে দুঃখজনক। আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি আগে যেমন ছিলেন, গত তিন মাস ধরে একটু পরিবর্তন আমার কাছে মনে হয়েছিল। বিভিন্ন ঘটনা ও কর্মকাণ্ডে আমার সেটি মনে হচ্ছিল। তবে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমাকের কাজে সব সময় সহযোগিতা করেছেন।’

একজন সাংবাদিক জানতে চান, তথ্যমন্ত্রী ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দেখেছেন? উত্তরে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমার কাছে পরিবর্তন মনে হয়েছে তিনি আগে যেমন ছিলেন তার চেয়ে ভিন্ন মনে হয়েছে। এটি আমার পারসোনাল অবজারভেশন। এটা তো আমি সবিস্তারে বলতে পারব না, এটা অনুভবের বিষয়। সেটি সেভাবে এখানে প্রকাশ করতে পারব না।’

মুরাদ হাসানের মধ্যে কোনো ধরনের ‘অস্থিরতা’ দেখেছেন কিনা প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো আসলে ডাক্তার নই, আমি ডাক্তার হলে হয়তো বলতে পারতাম এটা কী।’

প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের পর মুরাদ হাসানকে দল থেকেও বাদ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুরাদ হাসান জামালপুরের জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেবে।

মুরাদ হাসানের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে কি না— তথ্যমন্ত্রীকে এমন প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। জবাবে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য জনগণের নির্বাচিত। তাই চাইলেই বাদ দেওয়া যায় না।

মুরাদ হাসান আজ তার দপ্তরে পদত্যাগপত্র পাঠান। দুপুরে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ২০১৯ সালের মে মাসে মুরাদ হাসানকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে গতকাল সোমবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, অশালীন, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ায় মুরাদ হাসানকে আজকের মধ্যে পদত্যাগ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ডা. মুরাদ ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন।

২০১৯ সালে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মুরাদ। ওই বছর মে মাসে তাকে স্বাস্থ্য থেকে সরিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ

বিদায় নিচ্ছেন সানিয়া মির্জা

করোনায় একদিনে বিশ্বে ৩২ লাখ শনাক্ত

সন্তান ধারনে এইডস আক্রান্ত নারীর ঝুঁকি অনেক বেশি

কর্মবিরতির হুমকি রেল কর্মীদের

দেশে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড