রবিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২১

গুজব ঠেকাতে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

আরও পড়ুন

গুজব ঠেকাতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে এ সতর্কতা জারি করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ যাতে গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য এমন সতর্কতা বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

সূত্র আরো জানায়, ঢাকায় কর্মরত যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ছুটিসহ বিভিন্ন কারণে ঢাকার বাইরে ছিলেন, তাঁদের কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে যাঁদের যাওয়ার কথা ছিল, তাঁদেরও সফর বাতিল করতে বলা হয়েছে।

অবশ্য বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কোনো পর্যায় থেকেই আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশ করে কোনো কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি।

ডিএমপির জ্যেষ্ঠ দুজন কর্মকর্তা বলেছেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা অসত্য তথ্য ছড়াতে পারে-এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ জন্য পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেউ যাতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে নানা ধরনের কথা ছড়িয়ে পড়ে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকজন নেতাও রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তার প্রকৃত অবস্থা জানতে যান। তবে নিয়মিত পরিদর্শনে এদিন রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে আসেন বিএনপি মহাসচিব।

রাতে গুলশানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি জানিয়েছিলেন, বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে নেওয়ার বিকল্প নেই।

রাতে সরেজমিনে হাসপাতালে এসে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে দেখা গেছে। তাদেরও উদ্বিগ্ন দেখা যায়। পরে রাত ১১:১১ মিনিটে বিএনপি মহাসচিব এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি প্রায় এক ঘণ্টা ছিলাম ম্যাডামের সিসিইউতে। সেখানে ডা. এফএম সিদ্দিকীসহ অন্য চিকিৎসকরা আছেন। বিকেলের দিকে ম্যাডামের হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ায় শরীরের অবস্থা ফ্লাকচুয়েট হয়েছিল। পরে উনাকে রক্ত দেওয়া হয়। এখন আগের অবস্থায় আছেন তিনি।

হাসপাতালে কেবিন ব্লকে বসে কথা হয় বিএনপির ঢাকা মহানগর (উত্তর) আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ম্যাডামের অবস্থা ভালো নয়। তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। দলের মহাসচিব রাতেই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ম্যাডামের এখন বিদেশে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। দেশের চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। পরে রাত সোয়া ১১টার দিকে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তিনি।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ