রবিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২১

ঘোষণা আসতেই টিকার লাইন ছেড়ে বাসার পথে

আরও পড়ুন

সকাল সকাল কেন্দ্রে ভিড় করেন টিকাপ্রত্যাশীরা। কেন্দ্রের সামনে আগ্রহ নিয়ে দাঁড়ান টিকা নিতে। এর মধ্যেই রেডক্রিসেন্টের এক স্বেচ্ছাসেবকে ঘোষণা দেন, ‘আপনাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছেন যাদের জ্বর, অ্যালার্জি, ডায়াবেটিস আছে, কিংবা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান? যারা এমন তাঁরা টিকা নিতে পারবেন না।’ এ কথা শুনে অনেকের কপালেই ভাঁজ পড়ে। টিকাকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়েও রওয়ানা হন বাসার দিকে।

বস্তিতে টিকাদান কর্মসূচির তৃতীয় দিন কড়াইলে বউবাজার টিকাকেন্দ্রে এমন ঘটনা হয়। বেলা ১টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নাসরিন বানু বলেন, ‘আমার বাচ্চা ছোট। শর্তের কারণে তো আমি টিকা নিতে পারব না। অথচ প্রচার-প্রচারণার সময় তো এমন কোনো শর্ত শুনিনি আমরা। কষ্ট করে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও ফিরে যেতে হচ্ছে আমাকে।’

কড়াইলে ৩টি কেন্দ্রের মোট ৯টি বুথে করোনার টিকা দেওয়া হয়। টিকাকেন্দ্র থেকে বের হয়ে দিনমজুর আব্দুল মজিদ বললেন, ‘টিকা তো সরকার দিতাছে ধাপে ধাপে। এখন সবারটা শেষ কইরা বস্তির মানুষরে দিতাছে। কষ্ট নাই, টিকা তো পাইতাছি। আমার বাড়ির সবাই কালকে দিছে। আমার বোন দিতে পারে নাই, কারণ সে বাচ্চারে বুকের দুধ খাওয়ায়।’

কড়াইল এরশাদ স্কুল মাঠ টিকাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ডিজি হেলথের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্তঃসত্ত্বা মা ও যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাঁদের টিকা দেওয়া নিষেধ আছে। আমরা তাঁদের টিকা দিচ্ছি না। নবজাতকের মায়েরা তাঁদের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নিতে হবে।’

যমুনা গার্মেন্টসের শ্রমিক সালমা আক্তার বলেন, ‘অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম। অবশেষে জানলাম, তাঁদের শর্ত মেনে আমি টিকা দিতে পারব না।’

সালমা আক্তার বলেন, ‘ছুটি না পাওয়ার কারণে এর আগের দুদিন কেন্দ্রে আসতে পারিনি। আজকে পাসিং কার্ড নিয়ে এসেও ফিরে যেতে হচ্ছে।’

বউবাজার টিকাকেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবী মাহবুব হোসেন বিজয় বলেন, ৩৮৫ জনের টিকার ব্যবস্থা আছে এখানে। আশা করি কাউকে ফিরে যেতে হবে না।’ তিনি আরও জানান, কড়াইলের বউবাজার কেন্দ্রেই একটু বেশি ভিড়।

এর আগের দিন টিকা নেওয়া ওই এলাকার রিকশাচালক মতিন মিয়া বলেন, ‘পরের টিকাটা কবে দেবে, এটা এখনো জানি না। মতিন জানালেন কালকে তাঁর হাতে কোনো ব্যথা ছিল না, কিন্তু আজ সকাল থেকে রিকশা চালাতে গিয়ে ঝাঁকি খেয়ে কিছুটা ব্যথা হচ্ছে।’ এ বিষয়ে টিকাকেন্দ্র থেকে তাঁদের কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

টিকা নিতে আসা সাবিনা জানালেন, ‘বাড়ির কাজ শেষ কইরা টিকা দিতে আইছি। অনেকেই টিকা দিছে এই দুই দিনে। কোনো সমস্যা হয় নাই শুইনা সাহস কইরা আইজকা (বৃহস্পতিবার) আইছি। টিভিতে দেখছি সরকার সবাইরে টিকা দেব। তাহলে আমি আর বাদ যাব কীসের জইন্যে।’

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ