বুধবার, ডিসেম্বর ১, ২০২১

চাকরি দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ‘প্রতারক রাজু’

আরও পড়ুন

নাটোর থেকে সুফি সান্টু: সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে নাটোরে মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে রাজু নামের এক ঔষধ ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব। এসময় তার কাছ থেকে ভূয়া নিয়োগপত্র, চেকবই, এটিএম কার্ড, জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্প, নগদ-৫৮ হাজার টাকা, অর্থ লেনদেনের রেজিস্ট্রার এবং ৮০০ ভারতীয় রুপি জব্দ করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) রাতে শাহিন আলম ও নাসিম নামের দুই অভিযোগকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মনিরুলকে তার বাড়ি বাগাতিপাড়া উপজেলার নন্দিকুজা দয়রামপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আটককৃত মনিরুল বাগাতিপাড়া উপজেলার নন্দিকুজা এলাকার কফির উদ্দিনের ছেলে।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে র‌্যাব-৫ (রাজশাহী) এর সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্প কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

ব্রিফিংয়ে নাটোর র‌্যাব ক্যাম্প কোম্পানী কমান্ডার অতিঃ পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন জানান, কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বাড়ি হওয়ায় মনিরুল বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরই এক পর্যায়ে প্রতারণার শিকার সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার শাহিন আলম এবং ঠাকুরগাঁও জেলার নাসিমের অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি অপারেশনাল দল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মনিরুল ইসলামের নন্দিকুজার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।

এসময় দুটি পেইনড্রাইভ, বিভিন্ন ব্যাংকের ১৬টি চেকবই, বিভিন্ন ব্যাংকের ৭টি এটিএম কার্ড, ৩টি এনআইডি কার্ড (যার ভিতরে একটি ভুয়া), চাকুরী দানের ৩টি চুক্তিনামা ষ্ট্যাম্প, ১২টি জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্প, ৮টি অর্থ লেনদেনের রেজিস্ট্রার, ২টি ভুয়া নিয়োগপত্র, ১টি ভুয়া আইডি কার্ডের ফটোকপি, প্রতারণালব্দ নগদ ৫৮ হাজার ১শ’ ৪০ টাকা এবং ৮০০ ভারতীয় রুপি জব্দ করা হয়।

আটক মো. মনিরুল ইসলাম এইচএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। তিনি পেশায় একজন ঔষধ বিক্রেতা হলেও নিজেকে সেনাবাহিনীর সিএমএইচ, ঢাকায় করণিক পদে কর্মরত আছেন বলে পরিচয় দিতেন এবং ওই পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পদ যেমন সৈনিক, অফিস সহায়ক, মেসওয়েটার, স্টোরম্যান পদে চাকুরী দেওয়া প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা হতে ৩য় পক্ষের মাধ্যমে চাকুরী প্রত্যাশী যুবকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিতেন। এক্ষেত্রে প্রতারক মনিরুল রাজু জাল জালীয়াতির মাধ্যমে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে চাকুরী প্রার্থীদের সরলতার সুযোগ নিতেন। চাকুরী প্রার্থীগণ নিয়োগপত্রে উল্লেখিত যোগদানের তারিখে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগদানের নিমিত্তে যাওয়ার পর বুঝতে পারতেন যে ওই নিয়োগপত্র সঠিক নয় বা ভুয়া।

এভাবে প্রতারক মনিরুল ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে চাকুরী প্রত্যাশীগণের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও মনিরুল প্রতারণার কাজে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজ নাম পরিবর্তন করে চাঁন মন্ডল পরিচয় ধারণ করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনিরুল ইসলাম অভিযোগকারী শাহিন আলম ও মোঃ নাসিমকে ভূয়া নিয়োগপত্র প্রদান ও মোটা অংকের অর্থ গ্রহনসহ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা হতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন চাকুরী প্রত্যাশীর নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেছে।

নিউজ হান্ট/এএস

সর্বশেষ