সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

চা বিক্রেতা রঞ্জুর সংসার কীভাবে চলে

আরও পড়ুন

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) থেকে আমিনুল হক বুলবুল: ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কাকচর গ্রামের মো. রঞ্জু (৪৩)। স্ত্রী, ১ ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার ৫ জনের অভাবের সংসার। অভাব অনটনের সংসারে বড় হয়েছেন। সুখের নাগাল পাননি কখনো। এখনো জীবনযুদ্বে লড়াই করছেন প্রতিনিয়ত। বেঁচে থাকার তাগিদে স্ত্রী-সন্তানের মুখে আহার যোগাতে জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন চা বিক্রেতার পেশা।

এই পেশায় আসার আগে দিনমজুরি করতেন তিনি। এছাড়া ঠেলাগাড়ি এবং ভ্যানও চালিয়েছেন তিনি। এ পেশায় সংসার চালাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। শরীর, মন কোনটাই আর যেন কুলায় না। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলে তার চা বিক্রি। তবুও দিনশেষে চা বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে না তার সংসার। খেয়ে না খেয়ে কোনমতে পার করছেন জীবন। পিতা মৃত আবেদ আলীর নিকট থেকে ঘর বাঁধার জন্য পেয়েছিলেন এক চিলতে জমি। সেখানেই কোনমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে রঞ্জুর।

সরেজমিন দেখা যায়, নান্দাইল উপজেলা পরিষদের পাশে অস্থায়ী দোকান পেতে চা বিক্রি করছেন তিনি। কেটলি থেকে কাপে চা ঢালছেন। হাসিমুখে সবাইকে চা দিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক। ছোট্ট চায়ের দোকান তার রুটি রুজির একমাত্র অবলম্বন। দোকানে ক্রেতাদের বসার জন্য রয়েছে তিনটি লম্বা বেঞ্চ। চা বিক্রির জন্য জরাজীর্ণ একটি টেবিলে চায়ের কাপ সাজিয়ে রেখেছেন। পাশে রয়েছে পান। প্রতিদিন এই চা দোকান থেকে পাওয়া ৩০০ টাকা আয়ে সংসার চলে রঞ্জুর। বেঁচে থাকার তাগিদে প্রতিদিন এভাবেই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি। ১২ বছর ধরে চা বিক্রি করায় পেশাটাকেই মায়া করে ছাড়তে পারছেন না বলে জানান তিনি। করোনাকালীন সরকারের দেওয়া কোন অর্থ সহায়তাও তিনি পাননি বলে জানান।

মাহমুদুল হাসান নামের এক চাকুরীজীবী ওই দোকানে চা পানকালে বলেন, রঞ্জু অনেক আগে থেকেই চা বিক্রি করে আসছেন। আমাদের অফিসের সবাই তার দোকানে চা পান করি। আমি তার বানানো চা নিয়মিত পান করি। অনেক ভালো করে চা বানান তিনি। চায়ের অপেক্ষায় বসে রয়েছেন আরও কয়েকজন।

কথা হয় রঞ্জুর সাথে। কাপে চা ঢালতে ঢালতে তিনি জানান, ১২বছর যাবত উপজেলা পরিষদের পাশে নিয়মিত চা বিক্রি করছেন তিনি। সরকারী অফিসের লোকজন তার দোকানে চা খেতে আসেন। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার চা বিক্রি হয়। সব খরচ বাদে ৩০০ টাকার মত থাকে। সকাল সন্ধ্যার দোকান এটি। যতক্ষণ অফিস চলে ততক্ষণ তার চায়ের দোকান চলে। শুক্র ও শনিবার ২ দিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় চা বিক্রি বন্ধ থাকে। ফলে এই ২দিন বেকার বসে থাকতে হয় তাকে।

রঞ্জু বলেন, ৫ দিনের সামান্য আয় দিয়েই চলে আমার সংসার।

চা বিক্রি করে এক ছেলে এবং দুই মেয়ের লেখাপড়া এবং সংসারের খরচসহ সব খরচ মিটাতে পারছেন না তিনি। বড় মেয়ে নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণিতে, মেঝ মেয়ে ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ে। ছোট ছেলের বয়স সাত। তাদের লেখাপড়া নিয়ে তিনি এক অজানা শঙ্কায় ভুগছেন বাবা রঞ্জু। হয়তোবা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে হবে তাকে। চা বিক্রি করে যে টাকা তিনি পান এতে করে তার দিন কোনো রকমে কেটে গেলেও ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত। সন্তানদেরকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে জীবন যুদ্ধের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন চা বিক্রেতা রঞ্জু।

অভাব-অনটনের সংসারে একটু ভালোভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট তিনি তার জন্য একটি সরকারি ঘর বরাদ্দের জোর দাবী জানান। রঞ্জু বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা ঘর চাই। যেন আমার ছেলেমেয়েরা একটু ভালোভাবে থাকতে পারে।”

নিউজ হান্ট/এএস

সর্বশেষ