মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৬, ২০২১

চিতলমারীতে দুর্গা প্রতিমায় রংতুলিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

আরও পড়ুন

চিতলমারী (বাগেরহাট) থেকে বিভাষ দাস:

‘পূজার বাঁশি বাজছে দূরে, মা আসছে বছর ঘুরে
শিলউলির গন্ধে আগমনী, কাশের বনে জয়ধ্বনি।’

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। সমাজে অন্যায় অশুভ ও আসুর শক্তি দমনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেবী দুর্গা আসছেন ধরনীধামে।

নীল আকাশে শরত মেঘের ভেলা। কাশফুলে দোল দিচ্ছে মলয় বাতাস। জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমন বার্তা। বুধবার মহালয়ার পুণ্য তিথিতে হয়ে গেলো মহাশক্তির আগমন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় এই উৎসব সামনে রেখে মন্দিরে মন্দিরে সাজ সাজ রব। ঢাকিরা ঢাকের কাঠিতে তাল তুলতে পার করছেন ব্যস্ত সময়। পূজার উৎসব ঘিরে দোকানে দোকানে নতুন পোশাক বেচা কেনার ভিড়। নতুন পোশাক হাতে পেয়ে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে শিশুরা। এদিকে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা শিল্পীর খড় মাটির কাজ শেষ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন তুলির শেষ আঁচড়ে রাঙিয়ে তুলতে প্রতিমা।

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কেন্দ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বোয়ালিয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, রায়গ্রাম পূর্বপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরসহ কয়েকটি পূজা মণ্ডপে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা কারিগরেরা দ্রুত রংতুলির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। কোন কোন মণ্ডপে রংয়ের কাজ শেষ করে অন্য মণ্ডপে রং করার কাজে ব্যস্ত। ৮০ শতাংশ মণ্ডপে রংয়ের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান নীতিশ মন্ডল নামের এক প্রতিমা শিল্পী। বাকী কাজ পূজা শুরুর আগেই শেষ হয়ে যাবে।

রায়গ্রাম পূর্বপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস বাড়ৈ বলেন, সরকারী সকল নির্দেশনা মেনে স্বল্প পরিসরে আমরা পূজার আয়োজন করেছি। করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের ব্যবস্থা রেখেছি। ভিড় এড়াতে মন্দিরে দুটি গেটের ব্যবস্থা রেখেছি।

চিতলমারী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিপ সাহা কালা জানান, এবছর উপজেলায় সব মিলিয়ে মোট ১৫৩টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার ভিতরে আটটি বাসন্তী পূজার মণ্ডপ রয়েছে। যেটা পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময় ও তিথিতে অনুষ্ঠিত হবে। বাকী ১৪৫টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা উদযাপনের যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে।

অলিপ সাহা কালা আরও জানান, সুন্দর পরিবেশে আড়ম্বরে এবারের পূজা উদযাপিত হবে। প্রশাসন ও থানার পক্ষ থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সার্বিক সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে বড় ধরনের কোন অনুষ্ঠানের অনুমতি সরকারের পক্ষ থেকে না থাকায় আমরা সেদিকে যাচ্ছি না। ভিড় এড়াতে মন্দিরে দুটি গেটের রাখার জন্য সব মন্দির কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। করোনা সতর্কতা অবলম্বন করতে সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে সেভাবে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে সুন্দরভাবে এবার দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল বলেন, শারদীয়া দুর্গাপূজা ঘিরে আইন শৃঙ্খলার বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা থাকবে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা আইনীভাবে মোকাবেলা করা হবে। কোভিড-১৯ এর কারণে উপজেলার প্রতিটি মন্দির কমিটিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে এবং বড় ধরনের কোন অনুষ্ঠান না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ