রবিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২১

‘জাতিসংঘ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয় আলোচিত হয়’

আরও পড়ুন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা ও এর স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি করোনা মহামারি থেকে টেকসই উত্তরণও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বলে জানান তিনি।

আজ সোমবার (৪ অক্টোবর) গণভবন থেকে বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। এ সময় করোনা টিকার সর্বজনীন প্রাপ্যতা, সহজলভ্যতা ও মহামারি থেকে টেকসই পুনরুদ্ধার আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।

অধিবেশনে আলোচিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখবে বলে আশা করেন শেখ হাসিনা।

অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে বিশ্বনেতাদের স্মরণ করিয়ে দেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ জানাই।

করোনা টিকার বৈষম্য দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। কেডিড-১৯ মহামারির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর ক্ষতি কমানো, ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া, টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের অনুরোধও জানান তিনি।

জাতিসংঘের অধিবেশনে পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি, বর্ণবাদ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট তথা এসডিজি, পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আলোচনা হয় বলেও জানান সরকার প্রধান। বলেন, আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে সবুজ প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের পক্ষে বক্তব্য রাখি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লগ অ্যান্ড ভ্যাসের এবং জলবায়ুজনিত কারণে বাস্তচ্যুত জনগণের পুনর্বাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বলেও শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে ২০ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার সম্মানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ লনের ইউএন গার্ডেনে একটি চারা রোপণ এবং একটি বেঞ্চ উদ্বোধন করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগদান এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ইভেন্টে অংশগ্রহণ, সেখানে বাংলায় ভাষণ দেয়া, বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যোগদান এবং বিভিন্ন সরকার, রাষ্ট্র ও সংগঠনের প্রধানের সঙ্গে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথাও জানান শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য সরকারি সফরে ১৯ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করেন। ২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করেন। সফর শেষ করে গত ১ অক্টোবর রাতে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ