বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২১, ২০২১

‘জাপান যাওয়ার মোহে ঘর ছেড়েছিল পল্লবীর ৩ ছাত্রী’

আরও পড়ুন

রাজধানী মিরপুরের পল্লবী এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কলেজছাত্রীকে উদ্ধারের পর র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) জানিয়েছে, জাপান যাওয়ার মোহেই ঘর ছেড়েছিল তারা। আর বাড়ি থেকে বের হয়ে ৩ ছাত্রী গাবতলী ও কমলাপুর হয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল। তিনজন যেমন একসঙ্গে ঘর ছেড়ে ছিল, তেমনি উদ্ধারও করা হয়েছে একসঙ্গে থাকা অবস্থায়।

আজ বুধবার (৬ অক্টোবর) মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে জানান র‍্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, সকালে বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। তিনজন একসাথেই ঘর ছেড়েছিল, উদ্ধারের সময়ও তারা একসাথে ছিল।

উদ্ধারের পর আজ বুধবার সকালে মোজাম্মেল হক জানিয়েছিলেন, র‍্যাব তাদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে। বিকেলে তিনি উদ্ধার হওয়া ছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিখোঁজ ওই তিন শিক্ষার্থী পল্লবীর বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে গাবতলী যায়। সেখান থেকে সাভারে গিয়ে একটি নোহা গাড়িতে চড়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে গেলে ট্রেন মিস করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে হাফসা নামের এক নারীর কথা আমরা তাদের কাছ থেকে শুনেছি। তারপর কমলাপুর থেকে ওই শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাসে চড়ে হাফসা কুমিল্লাতে যান। সেখানে গিয়ে তিন শিক্ষার্থী তাদের কাছে থাকা সব সিম কার্ড ভেঙে ফেলেন। একটি মুঠোফোনও ক্রয় করেন। এরপর সেখান থেকে তারা কক্সবাজারে যায়। কক্সবাজারে গিয়ে সি শাইন নামের একটি হোটেলে ওঠে।’

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ‘কক্সবাজারের যে হোটেলে ওই শিক্ষার্থীরা ওঠে, আমরা সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করেছি। তবে, ওই ফুটেজে তাদের তিনজনের বাইরে কারো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে ওই নারী নাকি তাদের জাপান নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। এখন ওই হাফসা নামের নারী কাল্পনিক নাকি সত্য, তা আমরা যাচাই করার চেষ্টা করছি।’

শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে র‍্যাবের অধিনায়ক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যখন সমুদ্রে নামে তখন হাফসা নামের ওই নারীর লোকজন শিক্ষার্থীদের কাছে থাকা কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা নিয়ে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই হোটেলের একটি ভাড়া কক্ষের টাকাও তারা নিজেরা মিটিয়েছিল।’

প্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা আগেই জানতে পেরেছিলাম, তারা কক্সবাজার গেছে। এ তথ্য জানার পর আমাদের একটি টিম কক্সবাজারে যাই। তারপর থেকে আমাদের টিম তাদের দিকে নজর রাখে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস আব্দুল্লাহপুর পৌঁছালে বেড়িবাধ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এখন আমরা তাদের পল্লবী থানায় হস্তান্তর করব।’

তিন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

গত বৃহস্পতিবার বাসা থেকে বের হয়ে তারা নিখোঁজ হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন নিয়ে যান। এ ঘটনায় শনিবার পল্লবী থানায় মামলা করে নিখোঁজ এক ছাত্রীর পরিবার। মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। তবে তাদের কাছ থেকে তাদের নিখোঁজের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ তিনজন আলাদা কলেজের শিক্ষার্থী হলেও একই এলাকায় বসবাস করতেন। তারা পরস্পরের পূর্বপরিচিত।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ