শুক্রবার, অক্টোবর ২২, ২০২১

ঝরে পড়া ঠেকাতে ওই ছাত্রীকে ক্লাসে ফিরিয়ে আনেন সেই শিক্ষক

আরও পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তৌহিদুর রহমান নিটল: পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়া ঠেকাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওই ছাত্রীকে ক্লাসে ফিরিয়ে আনেন ‘বাল্যবিবাহের শিকার ছাত্রীর শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাসে পাঠদান করানো’ সেই স্কুলশিক্ষক। নিউজ হান্টকে তিনি নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই স্কুলশিক্ষকের নাম পঙ্কজ মধু। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক তিনি। সাম্প্রতিক ঘটনায় সবার প্রশংসায় ভাঁসছেন ওই শিক্ষক।

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালে বাল্য বিবাহের শিকার ছাত্রীর শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাসে পাঠদান করাচ্ছেন স্কুলশিক্ষক— এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে নিউজ হান্ট যোগাযোগ করে ওই শিক্ষকের সঙ্গে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিক্ষক পঙ্কজ মধু নিউজ হান্টকে বলেন, “করোনা মহামারির প্রথম দিকে গোপনে ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর বিয়ে হয়ে যায়। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বিষয়টি স্কুলের কেউ জানতো না। সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে এক ছাত্রীর অনুপস্থিতি দেখতে পাই। বিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি। পরে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার বিয়ে ও সন্তানের খবর পাই। তারপরও ছাত্রীর পরিবারকে অনুরোধ করি তাকে স্কুলে পাঠাতে। পরে রবিবার (৩ অক্টোবর) ওই ছাত্রী শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে স্কুলে আসে। সন্তান নিয়ে ওই ছাত্রীর ক্লাস করতে কষ্ট হচ্ছে দেখে শিশুটিকে আমি কোলে নিই। স্নেহ-মমতা থেকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে ক্লাস করিয়েছি।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেল ভাইরাল হওয়ার আগে থেকেই তিনি তার শিক্ষার্থীদের কাছে প্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিগণিত ছিলেন। জানতে চাইলে ওই শিক্ষক সম্পর্কে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গেল অনেককেই।

সাবেকুন নাহার সাকিনা নামের ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, স্যার (পঙ্কজ মধু) আমাদের নিজের বাবার মতো আদর-স্নেহ করেন। শুধু আমি নই অধিকাংশ শিক্ষার্থীই স্যারকে বাবা ডাকেন।

ওই বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী বলেন, স্যারের (পঙ্কজ মধু) কোনো তুলনা হয় না। ওনার কারণে স্কুল মাঠে আমরা ভলিবল খেলতে পারছি। চিনাইর ভলিবল দল স্যারের কারণে সারাদেশের মধ্যে তৃতীয় স্থানে আছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জুলাই মাসে পঙ্কজ মধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০০০ সালের ৩ জুন থেকে তিনি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। পঙ্কজ মধু গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার সন্তান। তিনি দুই সন্তানের জনক।

নিউজ হান্ট/এএস

সর্বশেষ