মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২১

তেলের দাম নিয়ে সংসদে সরব জাতীয় পার্টি

আরও পড়ুন

সংসদে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) দুই দুই সংসদ সদস্য। আজ রোববার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ প্রতিবাদ করেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ও রুস্তম আলী ফরাজী। তারা ডিজেল-কেরোসিনের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করেন এবং এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বা বিকল্প ব্যবস্থা করার ব্যবস্থা নিতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পয়েন্ট অব অর্ডারে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, করোনা মোকাবেলা করে মানুষ যখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করা হলো। বলা নেই কওয়া নেই, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ না দিয়ে ২৩ শতাংশ দাম বাড়ানো হলো। গত কয়েক বছরে একসঙ্গে এ পরিমাণ দাম বাড়ান হয়নি।

গত শুক্র ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ানো হলো বৃহস্পতিবার। তারপর পরিবহনগুলো ধর্মঘটে চলে গেল। এতে করে পরীক্ষার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ডিজেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়া ২৭ শতাংশ, নৌযান ভাড়া ৩৭ শতাংশ বাড়ানো হছে। যেটা তেলের মূল্য বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি। কেন এ দুটি দামের সমন্বয় করা হয়নি, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কমার কারণে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ৭৫ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। বর্তমান সরকার যেহেতু নির্বাচিত সরকার। জনগণের কথা চিন্তা করলে কভিডের অবস্থায় হঠাৎ করে এ দাম না বাড়িয়ে কী বিকল্প ব্যবস্থা করা যেত না? এমনিতেই বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরমধ্যে তেলের কারণে অন্যান্য পণ্যের দাম আরো বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর কারণে দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য হয় তেলের দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে, না হলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষকে এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি।

এসময় জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়া সাধারণ মানুষকে চরমভাবে আঘাত করেছে। দ্রব্যমূল্যও বেড়ে গেছে। প্রতিবেশী দেশ জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে ঠিক রেখেছে। আমাদের সরকারও ইচ্ছা করলে তা করতে পারত। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন তেলের দাম কমে যায় তখন কিন্তু আমাদের এখানে কমান হয় না। অজুহাত দিয়ে বাড়ান হলে সেটা কত শতাংশ হতে পারে, সেটি আমাদের চিন্তা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, এবার পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে গেছে। এ বিষয় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার নতুন করে চিন্তা করা উচিত। কারণ জনস্বার্থ সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাবে। জনস্বার্থে এ দাম বাড়ানোর বিষয়টি আবার বিবেচনা করতে হবে। হয় দাম কমাতে হবে, না হয় ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ