সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

দুর্গাপূজা: রাজশাহীতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আরও পড়ুন

রাজশাহী থেকে মীর তোফায়েল হোসেন: সনাতন ধর্মাবলাম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। জগতের মঙ্গল কামনায় পরমেশ্বরী দেবী দুর্গা এবার স্বর্গলোক থেকে পৃথিবীতে আসবেন ঘোড়ায় চড়ে। আর বিদায় নেবেন দোলায় (পালকি) চড়ে। করোনার প্রাদুর্ভাব অনেকটাই কমতির দিকে থাকায় অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রঙ তুলির আঁচড়ে তপস্বিনী দেবী দূর্গাকে অকর্ষণীয় করে সাঁজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর প্রতিমাশিল্পীরা। চলছে মন্ডপ তৈরির মহাযজ্ঞ।

রাজশাহীতে এবার ৪৫৬টি মণ্ডপে এবার শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৭৫টি পূজামণ্ডপ প্রস্তুত হচ্ছে রাজশাহী মহানগর এলাকায়। আর বাকি ৩৮১টি মণ্ডপ রাজশাহীর ৯ উপজেলায়। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে এরই মধ্যে একটি প্রস্তুতিসভা করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে করোনার সংক্রমণ এড়াতে গত বছরের মতো এবারও বাড়তি সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রশাসনের নির্দেশনা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে মণ্ডপ সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিমা শিল্পীরাও এখন রংতুলির আঁচড়ে দেবী দূর্গাকে সাজিয়ে তোলার কাজ করছেন। সময়মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন তারা। রাজশাহীতে এ বছর গতবারের চেয়ে ১০টি মণ্ডপে পূজা কম হচ্ছে। তাও কাজের চাপ কমেনি বলে জানিয়েছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূজা অর্চনাতেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। পুরোহিত ও পূজারিদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে। মণ্ডপে মণ্ডপে রাখতে হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান-পানি। প্রতিমা বিসর্জনের সময় শোভাযাত্রা করা যাবে না।

জানা গেছে, রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় এবং প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসানো হবে একটি করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে এই কন্ট্রোল রুমকে তাৎক্ষণিক জানাবে পূজা কমিটি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ শেষ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল জানান, পূজামণ্ডপ ঘিরে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে যাওয়া এবং বের হওয়ার জন্য নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা গেট থাকবে। এবার পূজা চলাকালে ভক্তি সংগীত ছাড়া অন্য কোন গান না বাজানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রস্তুতিসভায়। পূজা ঘিরে কোথাও মেলা কিংবা অন্য অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা যাবে না।

আগামী ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে উঠবে স্বর্গজয়া দেবী দূর্গা। তারপর দশভুজা দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ১২ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৩ অক্টোবর মহাআষ্টমী এবং ১৪ অক্টোবর মহানবমী অনুষ্ঠিত হবে। তারপর ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব।

নিউজ হান্ট/এএস

সর্বশেষ