বুধবার, অক্টোবর ২৭, ২০২১

দেশ ছেড়ে পালিয়েছে শতাধিক আফগান মিউজিশিয়ান

আরও পড়ুন

তালেবানের দেশ দখলের পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছে শতাধিক আফগান মিউজিশিয়ান। এর মধ্যে ছাত্র এবং শিক্ষক রয়েছেন। আফগানিস্তানের সংগীত ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ এএফপিকে এখবর নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যক্ষ আহমদ সারমস্ত বলেন, দেশের নতুন নেতাদের দ্বারা সংগীতের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউনের আশঙ্কায় আফগানিস্তানের শীর্ষ সংগীত ইনস্টিটিউটের মোট ১০১ জন সদস্য সোমবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দোহায় (কাতারের রাজধানী) অবতরণ করেছেন।

আফগানিস্তান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মিউজিকের প্রতিষ্ঠাতা সারমস্ত, যিনি এখন মেলবোর্নে থাকেন তিনি বলেন, এই গ্রুপ, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক নারী ও কিশোরী, সেখানকার সরকারের সহায়তায় পর্তুগালে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে এই মিউজিশিয়ানরা দেশ ছাড়ার বিষয়ে সফল হবে কিনা তা নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্দেহ ছিল বলে তিনি জানান।

সারমস্ত বলেন, কাবুলের কাতারি দূতাবাসের সহায়তায় সংগীতশিল্পীদের ছোট ছোট দলে শহরের বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রথম প্রতিবন্ধকতায়, কাবুল বিমানবন্দরে তালেবান বাহিনী তাদের ভিসা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কিন্তু কাতার দূতাবাসের কর্মকর্তারা সমস্যার সমাধান করতে পেরেছেন।

মিউজিশিয়ানদের দেশ ছাড়া নিয়ে মন খারাপ হলেও একই সঙ্গে খুশি সারমস্ত। বলেন, ‘এটা ছিল অনেক কান্নার সময়। আমি অবিরাম কাঁদছিলাম। আমার পরিবার আমার সাথে একসাথে কাঁদছিল। এটা ছিল আমার পুরো জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত।’

ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, তিনি তার ছাত্রদের সাথে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত কাটিয়েছেন। তবে তালেবানরা কাবুলে ক্ষমতা গ্রহণের মুহূর্ত থেকেই সঙ্গীত ও বাদ্যযন্ত্রীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য শুরু হয়। আফগানিস্তানের জনগণ আবারও নীরব হয়ে গেছে।

তালেবানরা ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত তাদের প্রথম দফার শাসনামলে সঙ্গীতকে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে তারা এবার আরো মধ্যপন্থী ব্র্যান্ডের শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যদিও তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে,শরীয়া আইনের ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধ সীমার মধ্যে আফগানিস্তান চালাবে।

সংগীতের বিষয়ে আন্দোলনের অবস্থান অসঙ্গতিপূর্ণ এবং এখনও কোনো স্পষ্ট আদেশ জারি করা হয়নি।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে সারমস্ত জানিয়েছেন, তালেবানরা মিউজিক্যাল ইনস্টিটিউটের সদস্যদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকতে বলেছে।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ