মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২১

দৌলতদিয়ার যৌনপল্লি থেকে ৭ দিন ধরে নিখোঁজ এনজিওকর্মী লিলি

আরও পড়ুন

রাজবাড়ী থেকে কাজী তানভীর মাহমুদ: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতি’র সহসভাপতি লিলি বেগম (৩৮) ৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার খোঁজ না পেয়ে নানান শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এনজিওটির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিখোঁজের স্বজনরা।

লিলি বেগম নিখোঁজের ঘটনায় তার ভাগ্নে শফি ইসলাম গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ১টি সাধারণ ডায়রী (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।

মুক্তি মহিলা সমিতির কর্মকর্তা আতাউর রহমান খান মঞ্জু জানান, তাদের সংগঠনটি ১৯৯৯ সাল থেকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী ও এর আশপাশের এলাকার নারী এবং মেয়ে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে আসছে। নিখোঁজ লিলি বেগম সংগঠনের কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ১০ নভেম্বর দুপুরে পাশ্ববর্তী আ. লতিফের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই লিলি নিখোঁজ।

নিখোঁজ লিলি বেগমের ভাগ্নে শফি ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পূর্ব আমখাওয়া গ্রামে। তার খালা লিলি বেগম দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালন্দ উপজেলা দৌলতদিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। স্থানীয় আ. লতিফ নামের এক ব্যাক্তিকে তার খালা বিয়ে করেন। তবে সে বিয়ে আ. লতিফের পরিবার মেনে নেয়নি। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর মধ্যে তার খালার একটি বাড়ি আছে।

তিনি আরও জানান, তার খালা লিলি বেগমের সাথে তার ফোনে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হতো। গত ১০ নভেম্বর তার খালার নম্বরে ফোন দিলে তিনি ফোনটি বন্ধ পান। এর একদিন পর তিনি তার খালার খোঁজ করতে দৌলতদিয়ায় আসেন। এসময় তার খালার বাড়ির ভাড়াটিয়ারা জানান, তার খালা আগের দিন আ. লতিফের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় জিডি করেছেন শফি।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, নিখোঁজ লিলি বেগমের সন্ধানে ইতিমধ্যে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে। ঘটনায় যাদের নাম আসছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এছাড়া বিভিন্ন থানায় ইতিমধ্যে নিখোঁজের ছবিসহ বার্তা পাঠানো হয়েছে।

নিউজ হান্ট/এএস

সর্বশেষ