শনিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২১

নাটোর হাসপাতালে রোগীতে পূর্ণ শিশু ওয়ার্ড

আরও পড়ুন

নাটোর থেকে মোহাম্মাদ সুফি সান্টু: নাটোর সদর হাসপাতালে গত দুই দিন ধরে বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা। হঠাৎ করে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের শয্যা মাত্র ১৬ টি । হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও বাড়িয়ে করেছেন ৩০টি। তাতেও ঠাই হচ্ছে না। ফলে এখন ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায় শিশু রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১১৪ জন শিশু ভর্তি ছিল। বর্তমানে এই ওয়ার্ডে ৭৬ শিশু ভর্তি রয়েছে। গত ১১ দিনে এই ওয়ার্ডে চার জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নাটোর সদর হাসপাতাল সূত্র যানা যায়, গত (২ সেপ্টেম্বর) থেকে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে রোগী বাড়তে শুরু করে। এদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ১৯ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৬ শয্যার সাথে আরও ৯টি যুক্ত করে। বর্তমানে ৩০ শয্যা করে তাতে সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গত ১১ দিনে এই শিশু ওয়ার্ডে ৩৭৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে জন।

সরেজমিনে গিয়ে, শিশু ওয়ার্ডের প্রবেশ পথে অনেকটা বাধা পেতে হয়। সেখানে মেঝে ও খোলা বারান্দায় অসুস্থ শিশু রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। নেই কোন বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা। অনেকে প্রচণ্ড গরমের তাড়নায় হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। এর মধ্যে অনেকেই গরমে আরও বেশী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত রোগীর ভিড়ে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সব রোগীকে একসাথে অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পালাক্রমে তাদের অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে, এতে করে অনেক শিশুরা রয়েছেন ঝুঁকিতে।

সিংড়া উপজেলার সোয়াইড় গ্রামের বিকাশ চন্দ্র জানান, তিনি সাত মাসের সন্তান দীপ্তকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, দুদিন খোলা বারান্দায় থাকার পর হাসপাতালের ভিতরে শয্যা পেয়েছেন। সন্তানের জ্বর, সর্দি, হালকা কাশি আছে। কমছে না। তারা হাসপাতালে থেকেই চিকিৎসা নিতে চান।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের কন্সালট্যান্ট সুমনা সরকার জানান, গত ১ মাস ধরে শিশু ওয়ার্ডে ও জরুরী বিভাগে রোগী বেড়েই চলছে। রোগীদের ৮০ শতাংশই জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত। পরীক্ষা করার পরে তাদের অনেকের নিউমোনিয়া শনাক্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকেই সাধারণ জ্বর, সর্দি । বেশির ভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। হঠাৎ শিশু রোগীর বৃদ্ধির কারণ হিসাবে তিনি অতিরিক্ত গরমে ঘাম বুকে বসে যাচ্ছে। এতে জ্বর, সর্দি, নিউমোনিয়া দেখা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক পরিতোষ কুমার রায় জানান, হঠাৎ করে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও ঠাণ্ডা গরমে বাচ্চারা দ্রুত ঘেমে যায় এবং ওই ঘাম থেকে শিশুরা জ্বর, সর্দি ও কাশিতে বেশী সংক্রমিত হচ্ছে। এর ফলে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই দিন ধরেই শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিলেই শিশুরা সুস্থ হয়ে উঠবে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ