সোমবার, নভেম্বর ২৯, ২০২১

নারী কেলেঙ্কারির দায়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব ছাড়লেন পেইন

আরও পড়ুন

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাশেজ সিরিজ শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে সবাইকে চমকে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেন টিম পেইন। হোবার্টে শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে লিখিত বিবৃতিতে পদত্যাগের কথা জানান পেইন।

মূলত মাঠের বাইরের আপত্তিকর এক ঘটনার কারণে দায়িত্ব ছাড়লেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ২০১৭ সালে তাসমানিয়া ক্রিকেটের এক সাবেক নারীকর্মীকে আপত্তিকর ছবি পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

৭ বছরের বেশি সময় দলের বাইরে থাকার পর ২০১৭ সালে পেইন দলে ফেরেন। স্টিভেন স্মিথদের বল টেম্পারিং বিতর্কের পর ২০১৮ সালে পেয়ে যান নেতৃত্ব। সেই নেতৃত্বে টিকে ছিলেন আজকের আগ পর্যন্ত এবং অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলকে থিতুও করেন তিনি।

কিন্তু পুরনো সেই ‘যৌন হেনস্থার’ ঘটনা সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সংবাদমাধ্যমে এই বিতর্ক নাম পেয়ে গেছে ‘সেক্সটিং স্ক্যান্ডাল।’ সেই সময় যদিও তদন্তে দায়মুক্তিই পেয়েছিলেন পেইন। তবু সেটির জেরে দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন তিনি আচমকাই।

নিজের শহর হোবার্টে কান্নজড়িত কণ্ঠে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন পেইন। লিখিত বিবৃতিতে পেইন বলেছেন,

“আজ আমি অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি। এটি সত্যিই অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত। তবে আমি, আমার পরিবার এবং ক্রিকেটের জন্য এটিই সঠিক।“

“আমার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট প্রায় চার বছর আগের। সেই সময়ের এক সহকর্মীর সঙ্গে টেক্সট ম্যাসেজ বিনিময়ের ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলাম। সেসময় এই ব্যাপারটি নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ইন্টেগ্রিটি ইউনিট বিশদ তদন্ত করেছিল, আমি যেটায় পুরোপুরি ও খোলামেলাভাবেই অংশ নিয়েছিলাম।”

“ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্ত ও ক্রিকেট তাসমানিয়ার মানব সম্পদ বিভাগের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল যে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আচরণবিধির কোনো ধারা ভাঙিনি আমি। যদিও আমাকে নির্দোষ রায় দেওয়া হয়েছিল, তার পরও সেসময় ওই ঘটনায় গভীর অনুশোচনা করেছিলাম আমি, এখনও অনুতপ্ত।”

“সেসময় স্ত্রী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম এবং ওদের ক্ষমা ও সমর্থনের জন্য দারুণ কৃতজ্ঞ আমি। ভেবেছিলাম, এই ঘটনা আমাদের জীবনে অতীত হয়ে গেছে এবং দলেই পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারব। গত তিন-চার বছর ধরে যেটি করেই আসছি।”

“কিন্তু সম্প্রতি জানতে পারি, গোপন সেই টেক্সট ম্যাসেজগুলি সামনে চলে আসছে। ২০১৭ সালে আমার সেই কাজ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট অধিনায়কের মানদণ্ডের সঙ্গে ও বৃহত্তর সম্প্রদায়ের সঙ্গে যায় না। আমার স্ত্রী, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের যে ব্যথা ও যন্ত্রণা দিয়েছি, সেসবের জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আমাদের খেলাটার ভাবমূর্তির কোনো ক্ষতি করে থাকলেও দুঃখপ্রকাশ করছি।”

“এবং আমি বিশ্বাস করি, অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই সঠিক সিদ্ধান্ত, যা কার্যকর এই মুহূর্ত থেকে। অ্যাশেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে আমার ঘটনা দলের জন্য অবাঞ্ছিত ব্যাঘাত ডেকে আনুক, তা আমি চাই না।”

“অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের নিবেদিত একজন সদস্য হয়ে থাকব আমি এবং দারুণ একটি অ্যাশেজের দিকে তাকিয়ে থাকব।”

শেষ কথাটিতে পেইন জানিয়ে দিয়েছেন, নেতৃত্ব ছাড়লেও দলে খেলে যেতে চান তিনি। তবে এই ঘটনার পর তার দলে সুযোগ পাওয়াটাই হবে বিস্ময়।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া মেনে নিয়েছে পেইনের পদত্যাগ। শিগগিরই তারা নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করবে। সহ-অধিনায়ক হিসেবে আপাতত নেতৃত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে প্যাট কামিন্স। তিনিই দায়িত্ব পেলে ৬৫ বছরের মধ্যে প্রথম ফাস্ট বোলিং অধিনায়ক পাবে অস্ট্রেলিয়া।

নিউজ হান্ট/ইস

সর্বশেষ